উদ্দীপকে জনাব কবির সাহেব মধ্যযুগে বাংলার যে শাসকের প্রতিচ্ছবি তিনি হলেন সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহ।উদ্দীপকে উল্লিখিত উত্তর খিজিরপুরের একজন যোগ্য শাসক জনাব কবির। বিশৃঙ্খলপূর্ণ রাজত্বকালকে তিনি সে সময়কার স্বর্ণযুগে পরিণত করেন। তার দক্ষতার মাধ্যমে তার এলাকার শাসনকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে ধর্ম, বর্ণের কোনো ভেদাভেদ করতেন না। ফলে তার শান্তিপূর্ণ রাজত্বকালে প্রজারা শান্তিতে বসবাস করত। যা পাঠ্যপুস্তকের সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শহর কর্মকাণ্ডের সাথে 'সাদৃশ্য। তিনি শাসনকার্য পরিচালনা ও প্রজা পালনের ক্ষেত্রে জাতি ও ধর্মের কোনো পার্থক্য সৃষ্টি করেননি। হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ ও সম্প্রীতি স্থাপনের দ্বারা তিনি একটি সুন্দর ও কল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। হিন্দুদের * উৎসাহিত করার জন্য তিনি তাদের বিভিন্ন উপাধি প্রদান করতেন। বাংলা সাহিত্যের উন্নতি ও বিকাশ হুসেন শাহের শাসনকালকে ইতিহাসে অমর করে রেখেছে। তার উদার পৃষ্ঠপোষকতা নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যের শ্রীবৃদ্ধি সাধন করেছে। হুসেন শাহ যোগ্য কবি ও সাহিত্যিকগণকে উৎসাহিত করার জন্য পুরস্কার প্রদান করতেন। এ যুগের প্রখ্যাত কবি ও লেখকদের মধ্যে রূপ গোস্বামী, সনাতন গোস্বামী, মালাধর বসু, বিজয় গুপ্ত, বিপ্রদাস, পরাগল খান ও যশোরাজ খান উল্লেখযোগ্য ছিলেন। হুসেন শাহের পৃষ্ঠপোষকতায় তারা অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেন।সাপ্লিমেন্টপরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত কবির সাহেবের কর্মকাণ্ড বাংলার সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।