দৃশ্যপট-২-এ উল্লিখিত কোম্পানিটি তথা ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এদেশের মানুষের ওপর দুইশত বছরের ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম করে। আমি এর সাথে একমত।উদ্দীপকে দৃশ্যপট-২-এ দেখা যায়, 'খ' নামক কোম্পানিটি ১৬০০ সালে এদেশে আসে এবং বিভিন্ন ছলচাতুরির মধ্য দিয়ে ১৭৫৭ সালে এদেশের শাসনক্ষমতা হস্তগত করে। এখানে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কথা বলা হয়েছে। যারা পলাশীর যুদ্ধে জয়ী হয়ে ২০০ বছরের জন্য ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠা করে। ইংরেজরা এদেশে বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ১৬১২ সালে সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। পরবর্তীতে ইংরেজ বণিকরা তাদের শক্তিসামর্থ্য বৃদ্ধি করতে থাকে এবং এতদাঞ্চলে সাম্রাজ্য বিস্তারের ফন্দি আঁটে। এ সময় বাংলার নবাব হিসেবে সিংহাসনে বসেন নবাব সিরাজউদ্দৌলা।। সিংহাসনে বসার পর থেকেই তাকে নানামুখী ষড়যন্ত্র ও সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়। তার প্রথম সমস্যা ছিল পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের ষড়যন্ত্র। এদের সাথে ইংরেজরা নবাবের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করলে, যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ে। ফলে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর। তীরে পলাশীর আম্রকাননে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে নবাব পরাজিত হন। এ যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। মীরজাফর বাংলার নবাব হলেও তিনি ছিলেন নামে মাত্র নবাব, প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে। এ যুদ্ধের ফলে ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসায় বাণিজ্যের অধিকার লাভ করে। এ যুদ্ধের পর ইংরেজ শক্তির স্বার্থে এদেশের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক পরিবর্তন সংঘটিত হতে থাকে। পলাশী যুদ্ধের সুদূরপ্রসারী পরিণতি ছিল সমগ্র উপমহাদেশে কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠা। যুদ্ধের ফলে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ২০০ বছরের জন্য ভূলুণ্ঠিত হয়।