উদ্দীপকের চিত্র-১ এর ছবিটি ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহিদ মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীরের। বাংলার নবজাগরণে তার ভূমিকা অপরিসীম।
উনিশ শতকে ভারতবর্ষে মুসলমান সমাজে এক ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল। বাংলায় তার দুটি ধারা ছিল যার একটি হলো ওয়াহাবি আন্দোলন। তিতুমীর এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৮২৭ সালে হজব্রত পালন শেষে তিতুমীর দেশে ফিরে ধর্ম সংস্কার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। ১৮২৭ সালে তিতুমীর যে ধর্মীয় সংস্কার কাজে আত্মনিয়োগ করেন তার এ আন্দোলনে বহু মুসলমান, কৃষক, তাঁতি যোগদান করে। ফলে শাসক-শোষক জমিদার শ্রেণি কৃষকদের সংঘবদ্ধতা এবং তিতুমীরের শক্তি বৃদ্ধিতে শঙ্কিত হয়ে ওঠে। ফলে জমিদাররা মুসলমান প্রজাদের ওপর নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং তাদের প্রতি নানা নির্যাতনমূলক আচরণ শুরু করে। তিতুমীর এ অত্যাচারের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে সুবিচার চেয়ে ব্যর্থ হন। শেষপর্যন্ত তিনি ও তার অনুসারীরা সশস্ত্র প্রতিরোধের পথ অবলম্বন করেন। ১৮৩১ সালে নারিকেলবাড়িয়া এসে তিতুমীর তার প্রধান ঘাঁটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন শক্তিশালী এক বাঁশের কেল্লা। তার বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনাবাহিনী প্রেরণ করে। মেজর স্কটের নেতৃত্বে এ বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়া বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে। ইংরেজদের কামান-বন্দুকের সামনে বীরের মতো লড়াই করে পরাজিত হয় তিতুমীরের বাহিনী। তিনি যুদ্ধে শহিদ হন। ইংরেজদের গোলাবারুদ, নীলকর, জমিদারদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে তার বাঁশের কেল্লা ছিল দুঃসাহস আর দেশপ্রেমের প্রতীক, যা যুগে যুগে বাঙালিকে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাহস যুগিয়েছে, প্রেরণা যুগিয়েছে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যেতে।