উদ্দীপকের সম্পদ বণ্টন প্রক্রিয়ার সাথে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দ্বৈত শাসনব্যবস্থার মিল পাওয়া যায়। উদ্দীপকে উল্লিখিত আরমানের মৃত্যুর পর দুই পুত্রের মধ্যে সম্পত্তি' ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা যায়। সংসার পরিচালনা নিয়ে দুই ভাই লোকমান ও খলিলের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়, তা দ্বৈত শাসনব্যবস্থাকে নির্দেশ করে। ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধে জয়লাভের পর রবার্ট ক্লাইভ বাংলার দেওয়ানি লাভ করেন। এর ফলে বরার্ট ক্লাইভ দেওয়ানি সনদের নামে বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া অধিকার লাভ করেন। দিল্লি কর্তৃক বিদেশি বণিক কোম্পানিকে এ অভাবিত ক্ষমতা 'প্রদানের ফলে সৃষ্টি হয় দ্বৈতশাসনের। এতে করে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা আর নবাব পরিণত হন ক্ষমতাহীন শাসকে। অথচ নবাবের দায়-দায়িত্ব থেকে যায় ষোল আনা। ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়। এ কারণে ১৭৭০ সালে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। যা ইতিহাসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত। কিন্তু ১৭৬৫-৭০ সালে বার্ষিক রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ যা ছিল দুর্ভিক্ষের বছরের রাজস্ব আদায়ের প্রায় কাছাকাছি। ফলে বাংলার মানুষ হতদরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে। দ্বৈত শাসনব্যবস্থায় নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় তিনি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। কিন্তু এর দায়ভার পড়ে। নবাবের ওপর।পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টির সাথে দ্বৈতশাসনের সাদৃশ্য রয়েছে।