রিপনের পরাজয়ের সাথে নবাবি শাসনামলের ১৭৫৭ সালে সংঘটিত ঐতিহাসিক পলাশি যুদ্ধের মিল পাওয়া যায়।উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় দেখা যায়, রিপন 'ক' নামক রাষ্ট্রের রাজক্ষমতায় আরোহণ করেই নিকট স্বজনদের ষড়যন্ত্রের শিকার হন এবং সংঘটিত যুদ্ধে অদূরদর্শিতা ও নিকটতমদের অসহযোগিতার কারণে তার পরাজয় হয়। যার সাথে পলাশীর যুদ্ধের মিল রয়েছে। ইংরেজরা এদেশে বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ১৬১২ সালে সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। পরবর্তীতে ইংরেজ বণিকরা তাদের শক্তিসামর্থ্য বৃদ্ধি করতে থাকে এবং এতদাঞ্চলে সাম্রাজ্যবিস্তারের ফন্দি আঁটে। ১৭৪০-১৭৫৬ সাল পর্যন্ত বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব ছিলেন আলীবর্দী খান। তিনি ইংরেজদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও তার মৃত্যুর পর ইংরেজরা আবার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এসময় বাংলার নবাব হিসেবে সিংহাসনে বসেন নবাব সিরাজউদ্দৌলা। সিংহাসনে বসার পর থেকেই তাকে নানামুখী ষড়যন্ত্র ও সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়। তার প্রথম সমস্যা ছিল পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের ষড়যন্ত্র। এদিকে ইংরেজরা নবাবের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র করলে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে পড়ে। ফলে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আম্রকাননে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে নবাবের বাহিনী যখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে ঠিক তখনই নবাবের সেনাপতি মীরজাফর বিশ্বাসঘাতকতা করে যুদ্ধ থামিয়ে দেয়।মীর জাফরের ইঙ্গিতে ইংরেজরা এ সুযোগে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে যার অনিবার্য পরিণতি নবাবের পরাজয়।তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত রিপনের পরাজয়ের সাথে পলাশী যুদ্ধের মিল পাওয়া যায়।