হ্যাঁ, আমি মনে করি উক্ত ঘটনা তথা পলাশীর যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের ফলে বাংলায় স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত গিয়েছিল।পলাশি যুদ্ধ বাংলা তথা এ উপমহাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা। ইংরেজরা শুরু থেকেই বাণিজ্য করার পাশাপাশি সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব পোষণ করতে থাকে যার পরিণতি হয় পলাশির যুদ্ধ এবং বাংলার নবাবের পরাজয়। ১৭৪০-১৭৫৬ সাল পর্যন্ত বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব আলীবর্দী খান সুকৌশলে ইংরেজদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। ১৭৫৬ সালে নবাবের মৃত্যুর পর তার প্রিয় দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলা মাত্র ২২ বছর বয়সে বাংলার সিংহাসনে বসেন। কিন্তু সিংহাসনে বসেই তাকে নানামুখী ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করতে হয়। যার শেষ পরিণতি হয় ১৭৫৭ সালের পলাশির যুদ্ধ। নবাবের সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় ইংরেজরা এ যুদ্ধে জয়লাভ করে এবং বাংলায় ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম হয়। এ যুদ্ধে নবাবের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়। মীরজাফর বাংলার নবাব হলেও তিনি ছিলেন নামে মাত্র নবাব, প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে। এ যুদ্ধের ফলে ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসায় বাণিজ্যের অধিকার লাভ করে। এ যুদ্ধের পর ইংরেজ শক্তির স্বার্থে এদেশের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক পরিবর্তন সংঘটিত হতে থাকে। পলাশী যুদ্ধের সুদূরপ্রসারী পরিণতি ছিল সমগ্র উপমহাদেশে কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠা। এভাবেই এ যুদ্ধের ফলে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়।তাই বলা যায়, পলাশীর যুদ্ধে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সর্য অস্তমিত হয়।