হ্যাঁ, আমি মনে করি চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই অধিক ছিল-।চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাংলার আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোতে প্রভাব ফেলে। কর্নওয়ালিস এদেশের জমিদার শ্রেণি গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। ইউরোপ ও উপমহাদেশের আর্থসামাজিক কাঠামো এক রকম ছিল না। ফলে এ ব্যবস্থা সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি করে। রাজস্ব পরিমাণ নির্দিষ্ট হওয়াতে বাজেট প্রণয়নে সুবিধা, কোম্পানির সমর্থনপুষ্ট জমিদার সৃষ্টি, জমিদাররা বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজ করে ও উৎপাদন বৃদ্ধি করে, শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। তবে এ পদ্ধতির অসুবিধা বেশি ছিল। এ পদ্ধতির অসুবিধা হলো- ১. সঠিক জরিপ না থাকায় জমির সীমা নিয়ে মামলা হতো ২. সূর্যাস্ত আইনে জমিদার জমি হারায়; ৩. নতুন জমিদার সৃষ্টি হয়; ৪. দেশীয় শিল্প ধ্বংস হয়। এর ফলে কৃষকরা সরাসরি জমিদার কর্তৃক শোষিত হতে থাকে। ৫. চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে জমিদারের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়। তারা ইচ্ছে করলেই যেকোনো সময় তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করতে পারত। প্রথম দিকে প্রজাস্বত্ব আইন না থাকায় তাদের ভাগ্যের জন্য সম্পূর্ণভাবে জমিদারের দয়ার ওপর নির্ভর করতে হতো। ৬. জমিদারি আয় ও স্বত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে জমিদাররা নায়েব-গোমস্তার ওপর দায়িত্ব দিয়ে শহরে বসবাস শুরু করে। এসব অনুপস্থিত জমিদারদের নায়েব-গোমস্তাদের অত্যাচারে প্রজারা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। ফলে জমির উৎপাদন কমে যেতে থাকে, গ্রামের অর্থনৈতিক অবস্থাও খারাপ হতে থাকে।পরিশেষে বলা যায়, বাংলার ইতিহাসে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সুবিধার চেয়ে অসুবিধাই বেশি ছিল।