উদ্দীপকে ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের প্রতিচ্ছবি প্রকাশিত হয়েছে।ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া নামের বণিক সংঘটি ১৬০০ সালে রানি, এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদি প্রাচ্যে একচেটিয়া বাণিজ্য করার সনদপত্র লাভ করে। এ সনদপত্র নিয়ে কোম্পানির প্রতিনিধি বাণিজ্যিক সুবিধা লাভের আশায় সম্রাট আকবরের দরবারে হাজির হন। ১৬০৮ সালে ক্যাপ্টেন হকিন্স এবং ১৬১৫ সালে স্যার টমাস রো ব্রিটিশ রাজ্যের দূত হিসেবে ভারতে আসেন এবং ভারতীয় সম্রাটদের কাছ থেকে তারা ইংরেজদের জন্য বাণিজ্যিক সুবিধা আদায় করে নেন। বাংলার সুবেদার শাহ সুজার অনুমতি নিয়ে তারা ১৬৫৮ সালে হুগলিতে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। এভাবে তারা সুরাট, আগ্রা, আহমদাবাদ, কাশিমবাজার, হুগলি ও ঢাকাতে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করে। তারা এদেশীয় কিছু ষড়যন্ত্রকারী, ক্ষমতা লোভী এবং অর্থ লোভী রাজকর্মচারীদের সাথে হাত মেলায়ও এবং ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো পলাশি যুদ্ধ। এ যুদ্ধের মাধ্যমে তারা এদেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ শুরু করে। বক্সার যুদ্ধে মীর কাশিমকে পরাজয়ের মাধ্যমে তারা দেওয়ানি লাভ করে এবং এদেশের একচেটিয়া ক্ষমতা ইংরেজদের হাতে চলে যায়। ফলে ১৭৫৭ সাল থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং ১৮৫৮ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ রাজ বা রানি কর্তৃক এ ভারতীয় উপমহাদেশ শাসিত হয়।অতএব উদ্দীপকে ভারতীয় উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনকে বোঝানো হয়েছে।