উদ্দীপকে শান্তিপুরের বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশের সাথে প্রাচীন বাংলার কোন অবস্থার মিল লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে শান্তিপুরের বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশের সাথে প্রাচীন বাংলার শশাঙ্কের মৃত্যুর পরবর্তী মাৎস্যন্যায় অবস্থার মিল লক্ষ করা যায়। সপ্তম শতকে বাংলার ইতিহাসে শশাঙ্ক একটি বিশিষ্ট নাম। প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে তিনিই প্রথম সার্বভৌম শাসক। শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলার ইতিহাসে এক অন্ধকার যুগের সূচনা হয়। দীর্ঘদিন বাংলায় কোনো যোগ্য শাসক ছিল না। ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়। একদিকে হর্ষবর্ধন ও ভাস্কর বর্মণের হাতে গৌড় রাজ্য ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে, ভূস্বামীরা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় একে অন্যের সাথে সংঘাতে মেতে ওঠে। কেন্দ্রীয় শাসন শক্ত হাতে ধরার মতো কেউ ছিল না। এ অরাজকতার সময়কালকে ধর্মপালের খালিমপুর তাম্রশাসনে মাৎস্যন্যায় বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সাধারণত পুকুরে বড় মাছ ছোট মাছকে ধরে গিলে ফেলার মতো বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে মাৎস্যন্যায় বলে। বাংলার সবল অধিপতিরা এমন করে ছোট অঞ্চলগুলো গ্রাস করেছিল। এই অরাজকতার যুগ চলে একশ বছরব্যাপী। অষ্টম শতকের মাঝামাঝি সময়ে পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল ক্ষমতায় আসার মধ্য দিয়ে মাৎস্যন্যায় যুগের সমাপ্তি হয়। উদ্দীপকের শান্তিপুরের পঞ্চায়েত প্রধান জুয়েলের মৃত্যুর পর গ্রামের প্রধান হওয়া নিয়ে অশান্তি দেখা দেয়। সবাই ক্ষমতার দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয় এবং বিশৃঙ্খলা পরিবেশ সৃষ্টি হয়, যা রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর সৃষ্টি হওয়া মাৎস্যন্যায় পরিস্থিতিকে নির্দেশ করে।
SSC বাংলাদেশের ইতিহাস CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলাদেশের ইতিহাস · সৃজনশীল
উদ্দীপকে শান্তিপুরের বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশের সাথে প্রাচীন বাংলার কো…
উদ্দীপক
Dinajpur · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর