নারী জাগরণের ক্ষেত্রে চিত্র 'খ' প্রদর্শিত মনীষী তথা বেগম রোকেয়ার অবদান অপরিসীম। তাকে বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং প্রথম বাঙালি নারীবাদী হিসেবে অভিহিত করা হয়।বেগম রোকেয়া সমাজের অবহেলিত নারীদের পক্ষে তখনই কলম ধরেছিলেন যখন নারীরা শিক্ষা অর্জনের অধিকার পেত না, তাদেরকে পর্দার অন্তরালে থাকতে হতো, পুরুষরা ছিল পরিবারের কর্তা আর নারীদেরকে পুরুষের সমকক্ষ ভাবা হতো না। বেগম রোকেয়া তার 'মতিচুর' গ্রন্থে নারী পুরুষের সমকক্ষতার যুক্তি দিয়ে নারীদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জন করে সম-অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তার প্রবন্ধ, গল্প ও উপন্যাসের মধ্য দিয়ে নারী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আর লিঙ্গ সমতার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। তার স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি স্বামীর নামে ভাগলপুরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। ১৯১১ সালে তিনি কোলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল উর্দু প্রাইমারি স্কুল স্থাপন করেন। ১৯৩১ সালে এটি উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নীত হয়। নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯১৬ সালে কোলকাতায় আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন।পরিশেষে বলা যায়, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের হাত ধরেই বাংলার মুসলিম জাগরণ সূচিত হয় এবং বর্তমান নারী সমাজের অগ্রগতিতে তার অবদান অপরিসীম।