উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকগণ বারো ভূঁইয়া নামে পরিচিত ছিল।উদ্দীপকে কিছু ব্যক্তিবর্গের নাম যেমন- ঈসা খান, মুসা খান, চাঁদ রায়, কেদার রায়, বাহাদুর গাজী এবং তাদের শাসিত অঞ্চল যেমন-ভাওয়াল, ভূষণা, ভুলুয়া ইত্যাদি উল্লেখ করা হয়েছে। যা বারো ভূঁইয়াদের নির্দেশ করে। বারো ভূঁইয়া নামে খ্যাত বাংলার জমিদারগণ তাদের নিজ নিজ জমিদারিতে স্বাধীন ছিলেন। তাদের শক্তিশালী সৈন্য বাহিনী ও নৌবহর ছিল। স্বাধীনতা রক্ষার জন্য তারা একজোট হয়ে মুঘল সেনাপতির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। বাংলার ইতিহাসে এ জমিদারগণ 'বারো ভূঁইয়া' নামে পরিচিত। এ 'বারো' বলতে। বারোজনের সংখ্যা বোঝায় না। ধারণা করা হয় অনির্দিষ্ট সংখ্যক জমিদারদের বোঝাতেই 'বারো' শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। বারো ভূঁইয়াদের মধ্যে ঈসা খান ও মুসা খান ঢাকা জেলার অর্ধাংশ, প্রায় সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা এবং পাবনা, বগুড়া ও রংপুর জেলার কিছু অংশ শাসন করতেন। চাঁদ রায় ও কেদার রায় শ্রীপুর, বাহাদুর গাজী ভাওয়াল, সোনাগাজী সরাইল, লক্ষণ মানিক্য ভুলুয়া, মুকুন্দরাম, সত্রজিৎ ভূষণা (ফরিদপুর) শাসন করতেন। বারো ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন ঈসা খান। ঈসা খানের মৃত্যুর পর বারো ভূঁইয়াদের নেতা হন মুসা খান। তাদের বলিষ্ঠ উদ্যম দীর্ঘদিন বাংলাকে ভিনদেশি শাসকদের শাসন থেকে হেফাজত রেখেছিল। বাংলা ভূখণ্ড ও তার রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বীয় শাসনকার্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তাই তারা বাংলার বীর হিসেবে বিশেষ মর্যাদায় সমাদৃত। | পড়তেন।অতএব উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকগণ বারো ভূঁইয়া নামে পরিচিত।