উদ্দীপকে রাজ সাহা সেন বংশের লক্ষণ সেনের প্রতিনিধিত্ব করছে। তার দুর্বলতার সুযোগেই বখতিয়ার খলজি বাংলা বিজয় করেন এবং বাংলায় মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।উদ্দীপকে দেখা যায়, রাজ সাহা পিতার মৃত্যুর পর অধিক বয়সে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি সুদক্ষ যোদ্ধা, সুপণ্ডিত, বিদ্যোৎসাহী ও ধার্মিক হলেও বার্ধক্যজনিত কারণে শাসনে দুর্বল হয়ে ক্ষমতা হারান। এখানে রাজ সাহার মাধ্যমে রাজা লক্ষণ সেনের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সেন বংশের শাসক বল্লাল সেনের মৃত্যুর পর তার পুত্র লক্ষণ সেন (১১৭৮-১২০৫ খ্রি.) সিংহাসনে বসেন। পিতার ন্যায় তিনিও সুদক্ষ যোদ্ধা ছিলেন এবং রণক্ষেত্রে নৈপুণ্যের পরিচয় দেন। তিনি প্রাগ-জ্যোতিষ, গৌড়, কলিঙ্গ, কাশী, মগধ প্রভৃতি অঞ্চল সেন সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। লক্ষণ সেন নিজে সুপণ্ডিত ও বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। তার রাজসভায় বহু পণ্ডিত ও জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গের সমাবেশ ঘটেছিল। ধোয়ী, শরণ, জয়দেব, গোবর্ধন প্রমুখ প্রসিদ্ধ কবিগণ তার সভা অলংকৃত করতেন। ভারত প্রসিদ্ধ পণ্ডিত হলায়ুধ তার প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মীয় প্রধান ছিলেন। লক্ষণ সেন নিজে পিতার অসমাপ্ত গ্রন্থ 'অদ্ভুতসাগর' সমাপ্ত করেছিলেন। তিনি ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে নদীয়াতে অবস্থানকালে বখতিয়ার খলজির আক্রমণে ক্ষমতা হারান।পরিশেষে বলা যায়, রাজ সাহার মাধ্যমে লক্ষণ সেনের চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।