উদ্দীপকের দৃশ্য-২ এ জনাব মোহর রূপবান মুড়া, বৌদ্ধ মন্দির, শালবন বিহার ও লালমাই পাহাড় ঘুরতে কুমিল্লায় যান যা একসময় শক্তিশালী রাজবংশ চন্দ্র বংশের অধীনে ছিল। তাই জনাব মোহরের ভ্রমণকৃত অঞ্চলটি ছিল দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সবচেয়ে শাক্তিশালী ও স্বাধীন রাজবংশে তথা চন্দ্র বংশের নিয়ন্ত্রণাধীন। -মন্তব্যটি যথার্থ।
দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সবচেয়ে শক্তিশালী স্বাধীন রাজবংশ ছিল চন্দ্র বংশ। দশম শতকের শুরু থেকে এগারো শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত দেড়শ' বছর এ বংশের রাজারা শাসন করেন। চন্দ্র বংশের প্রথম নৃপতি পূর্বচন্দ্র ও তার পুত্র সুবর্ণচন্দ্র রোহিতগিরির ভূস্বামী ছিলেন। সুবর্ণচন্দ্রের পুত্র ত্রৈলোক্যচন্দ্রই এ বংশের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন। তার উপাধি ছিল 'মহারাজাধিরাজ'। ত্রৈলোক্যচন্দ্র হরিকেল, চন্দ্রদ্বীপ (বরিশাল ও পার্শ্ববর্তী এলাকা), বঙ্গ ও সমতট অর্থাৎ সমগ্র পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় নিজ বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। লালমাই পাহাড় ছিল চন্দ্র রাজাদের মূল কেন্দ্র। এ পাহাড় প্রাচীনকালে রোহিতগিরি নামে পরিচিত ছিল। ত্রৈলোক্যচন্দ্রের সুযোগ্য উত্তরাধিকারী ছিলেন তার পুত্র শ্রীচন্দ্র। তার শাসনামলে চন্দ্র বংশের প্রতিপত্ত উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে। নিঃসন্দেহে তিনি বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন। তিনি 'পরমেশ্বর পরম ভট্টারক মহারাজাধিরাজ' উপাধি ধারণ করেছিলেন।
গোবিন্দ চন্দ্রের রাজত্বকালে চোলরাজ রাজেন্দ্র চোল ও কলচুরিরাজ কর্ণ বঙ্গ আক্রমণ করেন। এই দুই বৈদেশিক আক্রমণ চন্দ্র রাজার ক্ষমতা হ্রাস করে তাদের শাসনের পতন ঘটায়।