উদ্দীপকের '?' চিহ্নিত স্থানটি সেন বংশের শাসক বল্লাল সেনকে নির্দেশ করছে।উদ্দীপকের তথ্যবলি তথা দুটি সংস্কৃত গ্রন্থ রচনা, রামপালে রাজধানী স্থাপন ও কৌলীন্য প্রথার প্রবর্তন বল্লাল সেনকে নির্দেশ করে। কেননা তিনি উপরোক্ত কার্যাবলি সম্পাদন করেন। বিজয় সেনের পর সিংহাসনে আরোহণ করেন তার পুত্র বল্লাল সেন। ১১৬০-১১৭৮ খ্রি. পর্যন্ত বল্লাল সেন বাংলায় রাজত্ব করেন। তার রাজত্বকালে তিনি শুধু পিতৃরাজ্যই রক্ষা করেননি, মগধ ও মিথিলাও সেন রাজ্যভুক্ত করে সেন শাসন শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। অন্যান্য উপাধির সাথে বল্লাল সেন নিজের নামের সাথে 'অরিরাজ নিঃশঙ্ক শঙ্কর' উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। বৃদ্ধ বয়সে পুত্র লক্ষণ সেনের হাতে রাজ্যভার অর্পণ করে স্ত্রীকে সাথে নিয়ে ত্রিবেনীর নিকট গঙ্গাতীরে বানপ্রস্থ অবলম্বন করে শেষ জীবন অতিবাহিত করেন। বল্লাল সেন অত্যন্ত সুপণ্ডিত ছিলেন। বিদ্যা ও বিদ্ব্যানের প্রতি তার যথেষ্ট অনুরাগ ছিল। তার একটি বিশাল গ্রন্থাগার ছিল। কবি বা লেখক হিসেবে সংস্কৃত সাহিত্যে তার দান অপরিসীম। তিনি 'দানসাগর' ও 'অদ্ভুতসাগর' নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন। এ গ্রন্থদ্বয় তার আমলের ইতিহাসের অতীব মূল্যবান উপকরণ। তিনি ছিলেন তন্ত্র হিন্দুধর্মের পৃষ্ঠপোষক এবং তিনি হিন্দু সমাজকে নতুন করে গঠন করার উদ্দেশ্যে কৌলীন্য প্রথা প্রবর্তন করেন।অতএব উদ্দীপকের '?' তথ্যাবলি রাজা বল্লাল সেনকে নির্দেশ করছে।