উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকগণকে পরাজিত করে সমগ্র বাংলায় মুঘল রাজত্ব কায়েম করা হয়। তুমি কি এর সাথে একমত? যুক্তিসহ উপস্থাপন কর ।
উত্তর: হ্যাঁ, উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকগণকে তথা বারো ভূঁইয়াদের পরাজিত করে বাংলায় মুঘল রাজত্ব কায়েম করা হয়। আমি-এর সাথে একমত। সম্রাট আকবরের সময়ে সমগ্র বাংলায় মুঘল শাসন বিস্তৃতি হয় নি বারো ভূঁইয়াদের বাধার মুখে। সম্রাট আকবর শাহবাজ খান, সাদিক খান ও রাজা মানসিংহের মাধ্যমে তাদের দমনের চেষ্টা করেও চূড়ান্ত সাফল্য পান নি। বারো ভূঁইয়াদের পরাজিত করার কৃতিত্ব সম্রাট জাহাঙ্গীরের। বারো ভূঁইয়াদের দমনের কৃতিত্বের দাবিদার সুবাদার ইসলাম খান (১৬০৮-১৬১৩ খ্রিষ্টাব্দ)। শাসনভার গ্রহণ করেই তিনি বুঝতে পারেন যে, বারো ভূঁইয়াদের নেতা মুসা খানকে দমন করতে পারলেই তার পক্ষে অন্যান্য জমিদারকে বশীভূত করা সহজ হবে। সেজন্য তিনি রাজমহল থেকে ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কারণ মুসা খানের ঘাঁটি সোনারগাঁ ঢাকার অদূরে ছিল। বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় আসার পথে ইসলাম খান কয়েকজন জমিদারের আনুগত্য লাভ করেছিলেন। বারো ভূঁইয়াদের মোকাবিলা করার জন্য ইসলাম খান শক্তিশালী নৌবহর গড়ে তোলেন। মুসা খানের সাথে প্রথম সংঘর্ষ বাধে ১৬০৯ খ্রিষ্টাব্দে করতোয়া নদীর পূর্বতীরে যাত্রাপুরে। সেখানে মুসা খানের দুর্গ ছিল। যুদ্ধে মুসা খান ও অন্যান্য জমিদার শেষপর্যন্ত পিছু হটেন। ইসলাম খান ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকায় প্রবেশ করেন। এ সময় থেকে ঢাকা হয় বাংলার রাজধানী। সম্রাটের নাম অনুসারে ঢাকার নাম করা হয় 'জাহাঙ্গীরনগর'। আর এভাবেই মুঘল আক্রমণে উদ্দীপকে উল্লিখিত বারো ভূঁইয়াদের শাসনের অবসান ঘটে। তাই বলা যায়, বারো ভূঁইয়াদের পরাজিত করে সুবাদার ইসলাম খান বাংলার মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
SSC বাংলাদেশের ইতিহাস CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
SSC · বাংলাদেশের ইতিহাস · সৃজনশীল
উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকগণকে পরাজিত করে সমগ্র বাংলায় মুঘল রাজত্ব কায়ে…
Jessore · 2025
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর