উক্ত শাসকই ছিলেন অর্থাৎ প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে শশাংক-ই গুরুত্বপূর্ণ সার্বভৌম শাসক- উক্তিটি যথার্থ।শশাংক ছিলেন গুপ্ত রাজা মহাসেনগুপ্তের একজন মহাসামন্ত। তিনি ৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দের গোড়ার দিকে গৌড় অঞ্চলে ক্ষমতা দখল করে স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে তিনি প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সার্বভৌম শাসক। কারণ তার নেতৃত্বেই বাংলা সর্বপ্রথম উত্তর ভারতীয় রাজনীতিতে অংশ নেয়ার মতো ক্ষমতা ও শক্তি সঞ্চার করতে সমর্থ হয়।শশাংক ছিলেন স্বাধীন গৌড় রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। তার রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। শশাংক প্রথম থেকেই তার রাজ্যসীমা বিস্তারে সচেষ্ট ছিলেন। গৌড়ে তার অধিকার স্থাপন করে তিনি পার্শ্ববর্তী অঞ্চল যেমন দণ্ডভুক্তি (মেদিনীপুর), উড়িষ্যার উৎকল (উত্তর উড়িষ্যা), কঙ্গোদ (দক্ষিণ উড়িষ্যা) এবং বিহারের মগধ রাজ্য জয় করেন। তার রাজ্য পশ্চিমে বারাণসী পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এছাড়া কামরূপের (আসাম) রাজা ভাস্করবর্মণও শশাংকের হাতে পরাজিত হয়েছিলেন। কনৌজ-থানেশ্বর জোট গঠনের ফলে বাংলার নিরাপত্তা বিপন্ন হয়ে পড়লে শশাংকও কূটনৈতিক সূত্রে মালবরাজ দেবগুপ্তের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে নিজের শক্তি বৃদ্ধি করেন। যা তার কূটনৈতিক প্রজ্ঞার ইঙ্গিতবহ। শশাংক ৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দের কিছু আগে মৃত্যুবরণ করেন।পরিশেষে উপরিউক্ত আলোচনার শ্রেক্ষিতে বলা যায়, সপ্তম শতকে বাংলার ইতিহাসে শশাংক একটি বিশিষ্ট নাম। প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে তিনিই ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ সার্বভৌম শাসক। সুতরাং প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।