উক্ত রাজা তথা ধর্মপাল ছিলেন প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ শাসকদের অন্যতম- উক্তিটি যথার্থ।পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের মৃত্যুর পর ৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে ধর্মপাল বাংলার সিংহাসনে বসেন। পাল সাম্রাজ্যের উত্থান ও এর প্রতিপত্তি বিস্তারে ধর্মপালের অবদান সর্বাধিক। বাংলা ও বিহারে তার শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল। উত্তর ভারতের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ সময়ে তিনটি রাজবংশের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল। একটি বাংলার পাল বংশ, অন্যটি রাজপুতনার গুর্জরপ্রতিহার বংশ ও তৃতীয়টি দাক্ষিণাত্যের রাষ্ট্রকূট বংশ। ইতিহাসে এ যুদ্ধ 'ত্রিশক্তির সংঘর্ষ' বলে পরিচিত। প্রথম যুদ্ধ হয় ধর্মপাল ও প্রতিহার বংশের রাজা বৎসরাজর মধ্যে। যুদ্ধে পরাজয় সত্ত্বেও ধর্মপাল বাংলার বাইরে বেশকিছু অঞ্চল জয় করেছিলেন। তিনি বারাণসী ও প্রয়াগ জয় করে গঙ্গা-যমুনার মধ্যবর্তী অঞ্চল পর্যন্ত রাজ্য বিস্তার করেন। কেউ কেউ মনে করেন, ধর্মপাল নেপালও জয় করেছিলেন।পাল রাজাদের মধ্যে তিনিই সর্বোচ্চ সার্বভৌম পরমেশ্বর, পরমভট্টারক মহারাজাধিরাজ উপাধি ধারণ করেছিলেন। তিনি বিক্রমশীল বিহার নির্মাণ করেন। নালন্দার মতো বিক্রমশীল বিহারও ভারতবর্ষের সর্বত্র ও ভারতবর্ষের বাইরে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল। নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর নামক স্থানেও ধর্মপাল এক বিশাল বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। এটি সোমপুর বিহার নামে পরিচিত। যা উদ্দীপকের চিত্র-২ এ দেখানো হয়েছে। ঐতিহাসিক তারানাথের মতে, ধর্মপাল বৌদ্ধধর্ম শিক্ষার জন্য ৫০টি শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। রাজা হিসেবে সব ধর্মাবলম্বী প্রজাদের প্রতি সমান পৃষ্ঠপোষকতা তার শাসনামলের একটি বৈশিষ্ট্য।তিনি বৌদ্ধ হলেও তার প্রধানমন্ত্রী গর্গ ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ।উপরিউক্ত আলোচনা দ্বারা এটি প্রতীয়মান হয় যে, পাল রাজা ধর্মপাল ছিলেন পাল বংশের রাজাদের মধ্যে অন্যতম।