উদ্দীপকে চিত্র-২ এ মুজিবনগর সরকার প্রদর্শিত হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে উক্ত সরকারের অর্থাৎ মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা অপরিসীম।'পাকিস্তান সামরিক বাহিনী কর্তৃক গণহত্যা শুরু হলে বাঙালিরা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে বিচ্ছিন্নভাবে। মুক্তিযুদ্ধকে সার্থক করে তোলার জন্য প্রয়োজন ছিল সংগঠিত আন্দোলনের। তাই গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার। মুজিবনগর সরকার ছাড়া ১৬ ডিসেম্বর বিজয়। অর্জন সম্ভব ছিল না। কারণ-প্রথমত, মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনের জন্য প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড তথা প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, যুব ও অভ্যর্থনা শিবিরের নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হলে স্বাধীনতা অসম্ভব ছিল।দ্বিতীয়ত, মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী গঠনের উদ্যোগ মুজিবনগর সরকারই গ্রহণ করেছিল। এই সরকারই যুদ্ধক্ষেত্রকে এগারোটি সেক্টরে ভাগ করেন। এসব সেক্টরে মুক্তিযোদ্ধাদের যুক্ত করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা পালন করেন।তৃতীয়ত, বিজয় অর্জন সম্ভব করার পিছনে যেমন মুক্তিযোদ্ধারা সংগ্রাম করেছেন, তেমনি বিশ্ব জনমত এ বিজয়কে ত্বরান্বিত করেছে। বিশ্ব জনমত সৃষ্টির পিছনে মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন শহরে যেমন- কলকাতা, ওয়াশিংটন, স্টকহোম ইত্যাদি প্রতিনিধি প্রেরণসহ বহুমুখী ভূমিকা পালন করেছে।১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে দেশকে পাকিস্তানিদের দখলমুক্ত করার জন্য রণক্ষেত্রে যুদ্ধ করেছেন এবং দেশকে বিজয় উপহার দিয়েছেন।তাই মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে বলা যায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে উদ্দীপকে চিত্র-২ প্রদর্শিত মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা অপরিসীম।