হ্যাঁ, আমি মনে করি, বাংলার জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণেই আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।
প্রবাসী বাঙালি, ছাত্র-সমাজ, সাধারণ জনগণ এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বস্তুত দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামের ফসল মহান মুক্তিযুদ্ধ। আর এ আন্দোলনে ভূমিকা ছিল বাংলার ছাত্রসমাজ, কৃষক, শিক্ষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিকসহ সকল স্তরের মানুষের।
মুক্তিযুদ্ধে কৃষকদের অবদান ছিল অত্যন্ত গৌরবময়। স্বাধীনতালাভে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে তারা ছিল অকুতোভয়। তাদের একটাই লক্ষ্য যেকোনো মূল্যে স্বাধীনতা অর্জন করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা ছিল গৌরবোজ্জ্বল। নারীরা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে মিছিল, মিটিং, সমাবেশ করে পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। সংবাদপত্র ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। শিল্পী, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা তাদের লেখনির মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছেন। মূলত সকল শ্রেণি পেশার মানুষ যার যার অবস্থান থেকে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন।অতএব বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এ যুদ্ধে ডাক্তার, কৃষক, ছাত্র, সাংবাদিক, শিল্পী, সাহিত্যিকসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করে। অর্জিত হয় আমাদের স্বাধীনতা।