উদ্দীপক-২-এ বর্ণিত মহান মনীষী তথা হাজী মুহম্মদ মহসীনের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।উদ্দীপকের জনাব রেজাউল ইসলাম একজন দাতা। তিনি প্রচুর সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও, সহজ-সরল জীবনযাপন করতেন। তার সকল সম্পত্তি তিনি শিক্ষা বিস্তার, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, দাতব্য চিকিৎসালয়সহ জনহিতকর কাজে দান করেন। উদ্দীপকের রেজাউল *করিম সাহেবের সাথে বাংলার দানবীর হাজী মুহম্মদ মহসীনের মিল রয়েছে। হাজী মুহম্মদ মহসীন ১৭৩২ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মুহম্মদ ফয়জুল্লাহ ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। তার পিতার অঢেল সম্পদ ছিল। আরবি, ফার্সি, উর্দু ও ইংরেজি এবং ইতিহাস ও বীজগণিতে তার অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে অনেক ধন-সম্পদের মালিক হন। এছাড়া তার একমাত্র বোন নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেলে তিনি বোনের সমস্ত সম্পত্তির মালিক হন। এ অগাধ ধন-সম্পদ নষ্ট না করে তিনি জনকল্যাণে ব্যয় করেন। তিনি ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি। মুসলমানদের শিক্ষার উন্নতির জন্য তিনি অনেক মাদ্রাসা, মসজিদ, হাসপাতাল ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি হুগলিতে একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর প্রভৃতি স্থানে মাদ্রাসার উন্নতি সাধনের উদ্দেশ্যে তিনি প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। ১৮০৬ সালে তিনি মহসীন ফান্ড গঠন করে তার সমস্ত সম্পত্তি দান করে দেন। এ ফান্ডের অর্থ দ্বারা হাজার হাজার মসলমান উচ্চ শিক্ষা লাভ করে।পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে রেজাউল করিমের মাধ্যমে হাজী মুহম্মদ মুহসীনকে বোঝানো হয়েছে। হাজী মুহম্মদ মহসীন একজন সমাজ সংস্কারক ও দানবীর ছিলেন।