উক্ত আন্দোলন তথা তিতুমীরের বিদ্রোহ প্রেরণা জুগিয়েছে স্বাধীনতা অর্জনে। – মন্তব্যটি যথার্থ।১৮২৭ সালে তিতুমীর যে ধর্মীয় সংস্কার কাজে আত্মনিয়োগ করেন তার এ আন্দোলনে বহু মুসলমান, কৃষক, তাঁতি যোগদান করে। ইংরেজ, জমিদার, নীলকরদের দ্বারা নির্যাতিত কৃষকরা দলে দলে তিতুমীরের বাহিনীতে যোগ দিলে ধর্ম সংস্কারে রূপ নেয়। ফলে শাসক-শোষক জমিদার শ্রেণি কৃষকদের সংঘবদ্ধতা এবং তিতুমীরের শক্তি বৃদ্ধিতে শঙ্কিত হয়ে ওঠে। শেষপর্যন্ত ১৮৩১ সালে তিতুমীরের বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনাবাহিনী প্রেরণ করে। মেজর স্কটের নেতৃত্বে এ বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়া বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে। ইংরেজদের কামান-বন্দুকের সামনে বীরের মতো লড়াই করে পরাজিত হয় তিতুমীরের বাহিনী। তিনি যুদ্ধে শহিদ হন। গোলার আঘাতে বাঁশের কেল্লা ভেঙে যায়। এভাবেই পরিসমাপ্তি ঘটে একটি সুসংগঠিত কৃষক আন্দোলনের। তিতুমীর ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ব্যাপক কৃষক আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। ইংরেজদের গোলাবারুদ, নীলকর, জমিদারদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে তার বাঁশের কেল্লা ছিল দুঃসাহস আর দেশপ্রেমের প্রতীক, যা যুগে যুগে বাঙালিকে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাহস যুগিয়েছে, প্রেরণা যুগিয়েছে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে যেতে।