উদ্দীপকে উল্লিখিত বর্ণনার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার মিল পাওয়া যায়।উদ্দীপকে দেখা যায়, ভারতবর্ষে যখন ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো জ্বলছে বাঙালি মুসলিম সমাজের মেয়েরা তখনও পিছিয়েছিল। লেখাপড়ায় অংশগ্রহণ তাদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। আধুনিক যুগের প্রারন্ডে অখণ্ড বাংলায় এক মহীয়সী নারী জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রচেষ্টায় কোলকাতায় ভাগলপুরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নারী শিক্ষার গুরুত্ব পুরুষশাসিত সমাজে পরিলক্ষিত হয়। যার সাথে বেগম রোকেয়ার সাদৃশ্যপূর্ণ। বেগম রোকেয়া রংপুরের মিঠাপুকুরে এক রক্ষণশীল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পরিবারের মেয়েরা ছিল খুবই পর্দানশিল। স্বভাবতই রোকেয়া বিদ্যালয়ে শিক্ষার সুযোগ পাননি। তিনি তার বড় ভাই ইব্রাহিম সাবের এবং বড় বোন করিমুন্নেসার কাছে শিক্ষা লাভ করেন। তাকে পড়াশোনা করতে হতো গভীর রাতে যাতে বাড়ির লোক টের না পায়। বড় ভাইয়ের একান্ত চেষ্টায় তিনি উর্দু, আরবি, বাংলা, ফারসি ও ইংরেজি শিক্ষা লাভ করেন। কিশোর বয়স থেকেই তিনি সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন। তিনি সমাজের কুসংস্কার, নারী সমাজের অবহেলা বঞ্চনার করুণ চিত্র নিজ চোখে দেখেছেন। যা উপলব্ধি করেছেন, তাই তিনি তার লেখার মধ্যে তুলে ধরেছেন। সমাজের চোখে আঙুল দিয়ে তিনি দেখাতে চেয়েছেন নারীদের করুণ দশা, তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের নমুনা। তার 'অবরোধবাসিনী', 'পদ্মরাগ', 'সুলতানা স্বপ্ন' প্রভৃতি গ্রন্থে নারী সমাজের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে।