উদ্দীপকের চিত্রটি তথা স্মৃতিসৌধটি মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ লক্ষ নাম না জানা শহিদের অমর স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত।১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষ নাম না জানা শহিদ ও মা-বোনের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের এই বাংলাদেশ। সকল শহিদদের স্মৃতি ধরে রাখতে ঢাকা শহর থেকে ৩৫ কি.মি. উত্তর-পশ্চিমে সাভারে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিসৌধ। এ স্মৃতিসৌধের নকশা করেছিলেন স্থপতি মইনুল হোসেন। সাতটি জোড়া ত্রিভুজাকার দেয়ালের মাধ্যমে ছোট থেকে বড় হয়ে ধাপে ধাপে সৌধটি ১৫০ ফুট উচ্চতায় পৌঁছেছে। সমগ্র স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের সৌন্দর্য ও গাম্ভীর্য বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। এসব কিছুই আমাদের দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের প্রতীক। পাশেই রয়েছে গণকবর, যাদের অমূল্য জীবনের বিনিময়ে এদেশ শত্রুমুক্ত হয়েছে। মূল স্মৃতিসৌধের সাত জোড়া দেয়াল মূলত বাঙালির গৌরবময় সংগ্রামের প্রতীক। এ রাজনৈতিক ঘটনাগুলো হলো ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৫৬, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯ এবং ১৯৭১। এ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সালের মধ্যেই আমাদের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস নিহিত। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ঘটনার ফলেই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।অতএব বলা যায়, বাঙালির অহংকার, গৌরব আর মর্যাদার প্রতীক এ স্মৃতিসৌধ।