উদ্দীপকের চিত্রটি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের শরণার্থী সমস্যার সাক্ষ্য বহন করে।১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রাও ফরমান আলী ও জেনারেল টিক্কা খানের পরিকল্পনায় ঢাকাসহ সমগ্র বাংলাদেশে নৃশংস হত্যাযজ্ঞা শুরু করে। ফলে হাজার হাজার নরনারী নিজ ভূমি ছেড়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করে, যাদের শরণার্থী বলা হয়। শরণার্থী বা উদ্বাস্তু (Refugee) বলতে বোঝায় যারা জাতিগত সহিংসতা, ধর্মীয় উগ্রতা, গৃহযুদ্ধ, বিদেশি আক্রমণসহ নানা কারণে নিজভূমি ত্যাগ করে অন্য দেশে আশ্রয় গ্রহণ করে। জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাহীনতাই এর প্রধান কারণ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষা অঞ্চলগুলোতে শরণার্থী ক্যাম্প গড়ে ওঠে। সবচেয়ে বেশি শরণার্থী আশ্রয় নেয় পশ্চিমবঙ্গে। এখানে প্রায় ৭৫ লাখ শরণার্থী আশ্রয় গ্রহণ করে এবং সমগ্র ভারতে ১ কোটি শরণার্থী আশ্রয় গ্রহণ করে। বহু মাইল পায়ে হেঁটে ভারতে আসা এসব শরণার্থীদের না ছিল খাবার, না ছিল পান করার মতো পানি, চিকিৎসাতো অনেক দূরের ব্যাপার। মূলত তাদের অবস্থা খুবই দুর্দশাগ্রস্ত ছিল। অনেক দীর্ঘশ্বাস, অনেক অভুক্ত শিশুর কান্না, অসহায় মানুষের নীরব চাহনি, একটু আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি, একটু পরে লাশের খাতায় একটি নতুন সংখ্যা এসবই ছিল শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর দৃশ্য। ক্ষুধা আর তৃষ্ণার সাথে যোগ হয় মহামারি কলেরা। যার ফলে প্রতিদিন শত শত মানুষ মৃত্যুর কবলে পতিত হয়।অতএব পাকিস্তানি সেনাদের অত্যাচার নৃশংসতায় ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাঙালি শরণার্থীদের বিষয়টি উদ্দীপকের চিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে।