স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে উজ্জীবিত রাখতে দৃশ্য-২-এর ব্যক্তি ও সংগঠনের ভূমিকা ছিল অপরিহার্য। -মন্তব্যটি যথার্থ।উদ্দীপকে দেখা যায়, দৃশ্য-২ এ জনার সোহেল আরাকানের মুসলমানদের ওপর হামলার খবর বহির্বিশ্বকে অবগত করে। মুক্তি নামক সাংস্কৃতিক সংগঠন গান গেয়ে আরাকানের মুসলমানদের মধ্যে সচেতনতা ও ঐক্য সৃষ্টি করে। যার সাথে সাংবাদিক সায়মন ড্রিং ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের মিল রয়েছে।মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে শিল্পী-সাহিত্যিক-বুদ্ধিজীবী, বিভিন্ন সংস্কৃতি কর্মীর অবদান ছিল প্রশংসনীয়। পত্র-পত্রিকার লেখা, স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রে খবর পাঠ, দেশাত্মবোধক গান, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান, কবিতা পাঠ, নাটক, কথিকা, এম আর আখতার মুকুলের অত্যন্ত জনপ্রিয় 'চরমপত্র' এবং 'জল্লাদের দরবার' ইত্যাদি অনুষ্ঠান মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে। যা মুক্তিযোদ্ধাদের মানসিক ও নৈতিক বল জাগ্রত করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে গণমাধ্যমের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সংবাদ, দেশাত্মবোধক গান, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, রণাঙ্গনের নানা ঘটনা দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে যুদ্ধে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত করে; মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস জুগিয়ে বিজয়ের পথ সুগম করে। এছাড়া মুজিবনগর সরকারের প্রচারসেলের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত পত্রিকা মুক্তিযুদ্ধে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।