অশোকের রাষ্ট্রে একনায়কতান্ত্রিক ও আতিকের দেশে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। এ দুই সরকারব্যবস্থার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।ক্ষমতার উৎসের ভিত্তিতে রাষ্ট্রের দুটি রূপ দেখা যায়। একটি একনায়কতান্ত্রিক ও অন্যটি গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা। যে সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী তাকে একনায়কতান্ত্রিক সরকার বলে। আর যে শাসনব্যবস্থায় জনগণ সরকারের কাজকে নিয়ন্ত্রণ করে তাকে গণতান্ত্রিক সরকার বলে। একনায়কতান্ত্রিক সরকার হলো এমন এক শাসন পদ্ধতি যেখানে সমস্ত ক্ষমতা একজন ব্যক্তি বা একটি ছোট গোষ্ঠীর হাতে থাকে। এ ধরনের সরকারে, জনগণের মতামত বা অধিকার প্রায়ই উপেক্ষিত হয় এবং সরকারি নীতি নির্ধারণে তাদের কোনো ভূমিকা থাকে না। মিডিয়া ও তথ্য প্রচারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকে এবং সাধারণত বিরোধী দলের অস্তিত্ব থাকে না অথবা তারা খুবই দুর্বল থাকে। এ ধরনের সরকারের অধীনে জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা প্রায়ই সীমিত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক সরকার হলো এমন এক শাসন পদ্ধতি যেখানে ক্ষমতা জনগণের মাঝে বিভক্ত হয় এবং জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধিদের নির্বাচন করে। এ ধরনের সরকারে, জনগণের মতামত ও অধিকার সম্মানিত হয় এবং সরকারি নীতি নির্ধারণে তাদের অংশগ্রহণ থাকে। মিডিয়া স্বাধীন থাকে এবং তথ্য প্রচারে বাধা থাকে না। বহুদলীয় প্রতিনিধিত্ব এবং মুক্ত নির্বাচন গণতান্ত্রিক সরকারের মূল বৈশিষ্ট্য। এ ধরনের সরকারের অধীনে জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকে।পরিশেষে বলা যায়, এ পার্থক্যগুলো সরকারের ধরন ও জনগণের জীবনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।