হ্যাঁ, আমি মনে করি, আইনের শাসন নাগরিক জীবনে না থাকার কারণে রহিমের মতো নিরীহ কৃষকেরা আরও বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়।আইনের শাসনের অভাব বলতে কার্যত আইন বাস্তবায়নে বৈষম্য বা সাম্য না থাকার অবস্থাকে বোঝায়। যদি সমাজে বিশেষ বিশেষ নাগরিকের জন্য বিশেষ সুবিধা সংরক্ষণ করা হয়, তখন তা আইনের শাসনের অভাব নির্দেশ করে। আইনের শাসন অনুপস্থিত থাকলে সমাজে এর সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। উদ্দীপকের রহিমের মতো নিরীহ ব্যক্তিরা তাদের অধিকার বঞ্চিত হয় এবং হয়রানির শিকার হয়। কিন্তু এর বাইরেও উক্ত বিষয়ের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। আইনের শাসনের অভাবে রহিম মিয়ার মতো মানুষেরা তাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। সমাজে তাদের স্বাধীনতার ক্ষেত্র সীমিত হয়ে পড়ে। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে বিধায় দরিদ্র ও দুর্বলরা সবলের দ্বারা অত্যাচারিত ও শোষিত হতে থাকে। সমাজে আইনের শাসন না থাকলে বিশৃঙ্খলা, অশান্তি, হানাহানি তীব্র হয়। অবিশ্বাস, আন্দোলন বাড়তে থাকে, যার প্রভাবে সমাজে শ্রেণিভেদ আরও প্রকট আকার ধারণ করে। ফলে উদ্দীপকের রহিমের মতো নিরীহ কৃষকরা হয়ে পড়ে আরও নিঃস্ব, দুর্বল, শোষিত, বঞ্চিত ও নিষ্পেষিত। অর্থাৎ, আইনের শাসনের অনুপস্থিতিতে নানামুখী সমস্যা তীব্রতর হতে থাকে। আর তাই আমি প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথার্থ বলে মনে করি।