প্রেক্ষাপট-১ এ প্রতিফলিত অর্থনীতির ধারণাটি সুযোগ ব্যয়ের ধারণা। আর সুযোগ ব্যয় ধারণাটি মানবজীবনের সকল স্তরে প্রযোজ্য। আমি উক্তিটির সাথে একমত।
একটি দ্রব্যের উৎপাদনের জন্য যে সর্বোত্তম বিকল্পটির উৎপাদন ত্যাগ করতে হয় তার পরিমাণ হলো প্রথম দ্রব্যটির সুযোগ ব্যয়। যেহেতু আমাদের চাহিদা অসীম কিন্তু সম্পদ সীমিত, তাই জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, কোনটি করব, আর কোনটি করব না। এ নির্বাচন বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রত্যেক ব্যক্তি, পরিবার, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান এমনকি সরকারকেও একটি বিকল্প বেছে নিতে হয় এবং অন্য বিকল্প ত্যাগ করতে হয়। এই ত্যাগকৃত বিকল্পই হলো সুযোগ ব্যয়। তাই বলা যায়, সুযোগ ব্যয় শুধু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি মানুষের জীবন পরিচালনার একটি সাধারণ নিয়ম।
উদ্দীপকে উল্লিখিত কেরামত আলী গম চাষ না করে ধান চাষ করার সিদ্ধান্ত নেন। এতে ধান চাষ থেকে ২০ মণ ফসল পাওয়া গেলেও গম চাষের সম্ভাব্য ১৫ মণ উৎপাদন তিনি ত্যাগ করেছেন। এই ১৫ মণ গমই হলো তার ধান উৎপাদনের সুযোগ ব্যয়।
অতএব, প্রেক্ষাপট-১ এ কেরামত আলীর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যে সুযোগ ব্যয়ের ধারণা প্রতিফলিত হয়েছে তা ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের প্রতিটি সিদ্ধান্তে প্রযোজ্য এবং তা বাস্তবজীবনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। তাই উক্তিটির সাথে একমত হওয়াই যুক্তিসংগত।