মাসুদা বেগমের দ্বিতীয় পদক্ষেপ অর্থনীতির ভাষায় বিনিয়োগ বলে। আর বিনিয়োগ বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিনিয়োগের ভূমিকা অপরিসীম। মানুষ তার সঞ্চিত অর্থ যখন উৎপাদন বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করে তখন তাকে বিনিয়োগ বলে। অর্থনীতিতে বিনিয়োগের গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষ আয় থেকে সঞ্চয় করে থাকে। সঞ্চিত অর্থ যখন উৎপাদন বাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত হয়, তখন তাকে বিনিয়োগ বলে। ধরা যাক, একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি কারখানায় এক লক্ষ টাকার মূলধন সামগ্রী আছে। উৎপাদন বাড়ানোর -জন্য আরও পঞ্চাশ হাজার টাকার মূলধন সামগ্রী ক্রয় করা হলো। অতিরিক্ত এ পঞ্চাশ হাজার টাকা হলো বিনিয়োগ। বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয়।
উদ্দীপকে মাসুদা বেগমের স্বামীর পাঠানো টাকা থেকে সংসারের খরচ ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে প্রতি মাসে ব্যাংকে ১০,০০০ টাকা জমা করেন। পাঁচ বছর পর তিনি ব্যাংকে জমানো টাকা দিয়ে বাঁশ, বেত এবং কাপড়ের একটি ছোট শিল্প গড়ে তোলেন। অর্থাৎ জমাকৃত সঞ্চয়ের টাকা উৎপাদনশীল ও লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করে, যেখান থেকে পুনরায় উপার্জন করা সম্ভব। এছাড়া সেখানে গ্রামের গরিব ও অসহায় ২০ জন নারীর কর্মসংস্থান হচ্ছে।
সুতরাং বলা যায়, মাসুদা বেগমের দ্বিতীয় পদক্ষেপ বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।