উদ্দীপকে মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী সুমন পুকুরে সার ও চুন প্রয়োগ করে পুকুর মাছ চাষের উপযোগী করে।
সুমন তার ৩০ শতকের পুকুরে মাছ চাষের সিদ্ধান্ত নেন। তার পুকুরের pH মান হলো ৪-৮। প্রতি শতকে সাধারণত চুন প্রয়োগ করতে হয় ১-২ কেজি। সুতরাং তার ৩০ শতক পুকুরে তিনি চুন প্রয়োগ করেন {(১২) × ৩০) কেজি বা ৩০-৬০ কেজি। চুন প্রয়োগের ফলে তার মাটি ও পানির উর্বরতা বেড়েছে, পানির pH সঠিক মাত্রায় ছিল। পানির ঘোলাত্ব কমে পানি পরিষ্কার হয়েছে ফলে সূর্যালোক সঠিকভাবে পুকুরে প্রবেশ করেছে, অক্সিজেন ও প্রাকৃতিক খাদ্য ভালো উৎপাদন হয়েছে এবং মাছের উপাদান ভালো হয়েছে। মাছের রোগবালাই দূর হয়েছে। সর্বোপরি সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
চুন প্রয়েগের পাশাপাশি তিনি সার প্রয়োগ করেছেন। সার প্রয়োগের ফলে তার মাছ চাষের পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি হয়। মাছের প্রধান প্রাকৃতিক খাবার হলো ফাইটোপ্লাঙ্কটন ও জু-প্লাঙ্কটন। সার প্রয়োগের ফলে পানিতে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যেমন- ফসফরাস, পটাশিয়াম পানিতে মিশে। এ পুষ্টি উপাদান ব্যবহার করে পানিতে ফাইটোপ্লাঙ্কটন তৈরি হয়। আর ফাইটোপ্লাঙ্কটনের উপর নির্ভর করে জু-প্লাঙ্কটন তৈরি হয়। সার দুই প্রকার। (ক) জৈব সার, যেমন-গোবর, হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা, (খ) অজৈব সার, যেমন- ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি ইত্যাদি। চুন প্রয়োগের ৫-৭ দিন পর তিনি সার প্রয়োগ করেছিলেন। রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে পুকুরে সার প্রয়োগ করেছিলেন। সার পানিতে গুলে সমস্ত পুকুরে সমানভাবে ছিটিয়ে দিয়েছিলেন। মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী চুন ও সার প্রয়োগ করায় তার মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছিল, মাছ রোগবালাই মুক্ত ছিল। ফলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হন।
তাই বলা যায়, কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী সুমনের গৃহীত কার্যক্রম যথার্থ ছিল।