উদ্দীপকের সিয়ামের পরিকল্পনাটি হলো- তার চাষকৃত জমিতে ভুট্টাকে সাইলেজ তৈরি করে সংরক্ষণ করা। এতে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তার খামারের পশুর খাদ্যের অভাব না হয়।
কোনো খাদ্যের গুণাগুণ ও পুষ্টিমান ঠিক রেখে ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য খাদ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে রেখে দেওয়াকে খাদ্য সংরক্ষণ বলে।
বাংলাদেশে প্রাপ্ত গবাদিপশুর খাদ্যের বেশিরভাগ কৃষি শস্যের উপজাত। বর্ষা মৌসুমে অনেক ঘাস উৎপাদিত হয়, যা গবাদিপশুকে খাওয়ানোর পরও অতিরিক্ত থেকে যায়। আবার শীতকালেও অতিরিক্ত শিম গোত্রীয় ঘাস উৎপাদিত হয়। কিন্তু প্রকৃতিতে যখন প্রতিকূল পরিবেশ বিরাজ করে যেমন খরা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি তখন ঘাসের উৎপাদন হ্রাস পায়। আবার অনেক সময় ঘাসের অভাব দেখা দেয় এ সময় গবাদিপশুকে কাঁচা ঘাসের বিকল্প খাবার খাওয়ানো হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ায় খাদ্যের অভাবে গবাদিপশু নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়। তাই এই সময় আগে থেকে সংরক্ষিত করে রাখা ঘাস পশুকে খাওয়ানো হয়। ফলে পশুর পুষ্টিজনিত সমস্যা দূর হয়। মাংস ও দুধের উৎপাদনও হ্রাস পায় না। ফলে কৃষকরাও আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া থেকে রক্ষা পায়। সিয়াম তার কৃষি জমিতে চাষকৃত ভুট্টাকে সাইলেজ হিসেবে সংরক্ষণ করেন এবং এগুলো তার খামারের পশুর খাদ্য হিসেবে সংরক্ষণ করে রাখেন।
তাই বলা যায়, সিয়ামের পরিকল্পনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।