কাঠমিস্ত্রির বর্ণিত প্রথম পদ্ধতিটি হচ্ছে কাঠের সিজনিং। কাঠের সিজনিং করা হলে কাঠের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পায় এবং তৈরিকৃত আসবাবপত্র টেকসই হয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে কাঠ থেকে পানি বের করে নেওয়ার পদ্ধতিকে সিজনিং বলে। সিজনিং দুইভাবে করা যায়- (১) এয়ার ড্রাইং এবং (২) কিলন পদ্ধতি। তাজা কাঠ সাধারণত অনেক আর্দ্র থাকে যা পচনশীলতা ও জীবাণুর আক্রমণ বৃদ্ধি করে। সিজনিং প্রক্রিয়া কাঠের আর্দ্রতা ধীরে ধীরে কমিয়ে কাঠকে শক্তিশালী করে এবং তার পচনশীলতা রোধ করে। এভাবে কাঠের জীবনকাল বৃদ্ধি পায় এবং কাঠের ওপর জীবাণু বা ছত্রাকের আক্রমণও কমে। এছাড়া, সিজনিং প্রক্রিয়ার ফলে কাঠের আকার ও আকৃতির স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। কাঠের আকার ঠিক রাখার ফলে তার ব্যবহারিক মান আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়। সিজনিংয়ের মাধ্যমে কাঠে পোকামাকড়ের আক্রমণও কমে যায়, কারণ আর্দ্রতা কমে গেলে পোকামাকড়দের জন্য কাঠের অভ্যন্তরে থাকার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়।অতএব, কাঠের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করতে সিজনিং একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া।