উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষোক্ত বক্তব্যটি হলো ভেষজ উদ্ভিদের মাধ্যমে চিকিৎসা যেমন সহজলভ্য, সস্তা এবং তেমনি কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। নিচে বক্তব্যটির গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো–বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষই গ্রামে বসবাস করে। গ্রামীণ মানুষ সাধারণত আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। গ্রামীণ মানুষ বেশিরভাগই ভেষজ উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। ভেষজ উদ্ভিদের রোগ নিরাময় কার্যকারিতা অত্যধিক। আধুনিক চিকিৎসার চেয়েও ভেষজ চিকিৎসার কার্যকারিতা বেশি। ভেষজ চিকিৎসায় খরচ অনেক কম লাগে এবং গ্রামের সর্বত্রই পাওয়া যায় বলে গ্রামীণ মানুষের জন্য ভেষজ উদ্ভিদই মহৌষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ভেষজ গাছের লতাপাতা, বাকল, পাতা, ফলমূল আদিকাল থেকে বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ভেষজ উদ্ভিদ হতে ওষুধ তৈরিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না বলে স্থানীয়ভাবে ওষুধ পাওয়া যায়।এছাড়া, ভেষজ উদ্ভিদ থেকে তৈরি ঔষধগুলো সাধারণত প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি হয়, তাই এগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম থাকে বা একেবারে থাকে না। অধিকাংশ আধুনিক চিকিৎসায় কিছু না কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যা ভেষজ চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিরল। ফলে, রোগীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিরাপদে এবং প্রাকৃতিক উপায়ে চিকিৎসা নিতে পারে। এই কারণে, ভেষজ উদ্ভিদের মাধ্যমে চিকিৎসা অনেক বেশি জনপ্রিয়, বিশেষ করে যেখানে চিকিৎসা সেবা বা আধুনিক ঔষধ সুলভ নয়।সুতরাং উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে উদ্দীপকের দীপেন বড়ুয়ার বক্তব্যটি যথাযথ।