উদ্দীপকের চিত্র-১ ও চিত্র-২ এ যথাক্রমে বাঁশ এবং বেতকে দেখানো হয়েছে। এদের মধ্যে বাঁশ আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেশি ভূমিকা রাখে। নিচে তা যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করা হলো-
বেত প্রাকৃতিক বনজ সম্পদ যা আমাদের দেশের বনে জঙ্গলে পাওয়া যায়। বেত মূলত বাংলাদেশ শিল্পগুণের জন্যই বহুল পরিচিত। এ থেকে তৈরি বিভিন্ন শিল্পদ্রব্য সম্পূর্ণই প্রাকৃতিক। এর সাহায্যে বিভিন্ন হালকা আসবাবপত্র, ক্ষুদ্র হস্তশিল্পের খেলনা, জুতার র্যাক, মোড়া, মিশ্রশিল্পের খাট, সোফা ইত্যাদি তৈরি করা হয়। বেতের ব্যবহার বাংলাদেশে ব্যাপক যা আমাদের গ্রামীণ শিল্প ঐতিহ্যকে ধরে রাখছে। তবে এই শিল্পের অর্থনৈতিক অবকাঠামো আমাদের দেশের অন্যান্য শিল্পের মতো অতটা ব্যাপকী প্রসারিত নয়।
অন্যদিকে বাঁশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অকাঠ বনজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ। গৃহনির্মাণ ও গৃহসামগ্রী থেকে বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত বাঁশ এর ব্যবহার বিস্তৃত। বাঁশ ব্যবহার করে বড়ো বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো কাগজ, পার্টিকেল বোর্ড, প্লাইবোর্ড, ঢেউটিন, প্যানেল তৈরি করে। এছাড়াও বাঁশ থেকে চাটাই, ডোল, খেলনা বাদ্যযন্ত্রসহ লেমিনেটেড বাঁশের মেঝে ও দেয়াল কভার, মাদুর, কুশন, সিটকভার, এমনকি পাদুকা ও তৈরি হয়। ব্যবহার এর উপর ভিত্তি করে বাঁশ শিল্পকে কাগজ শিল্প, নির্মাণশিল্প ও ক্ষুদ্র হস্তশিল্প এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এ সকল শিল্পের সাথে জড়িত আছে অসংখ্য মানুষ। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বিশাল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হচ্ছে।
তাই আলোচনা থেকে বলা যায় যে, চিত্র-২ এর বেতের চেয়ে চিত্র-১ এর বাঁশ আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেশি ভূমিকা রাখে।