উদ্দীপকে উল্লিখিত পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ের পরিসর অত্যন্ত সুবিস্তৃত।পৌরনীতি যেহেতু নাগরিকতাবিষয়ক বিজ্ঞান, তাই এর পরিধি ততটা বিস্তৃত-যতটা নাগরিক জীবন বিস্তৃত রয়েছে। নাগরিকতাবিষয়ক আলোচনা পৌরনীতির মুখ্য আলোচ্য বিষয়। রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকদের কর্তব্য, অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয় পৌরনীতির আলোচনার ক্ষেত্র। রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমরা রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়। যেমন- রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ, আইন মান্য করা, সঠিক সময়ে কর প্রদান করা ইত্যাদি। নাগরিক জীবনকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে গড়ে উঠেছে। পরিবার, সমাজ, রাজনৈতিক দল ইত্যাদি। এদের উৎপত্তি, প্রকৃতি ও কার্যাবলি এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পৌরনীতি রাষ্ট্রের উৎপত্তি সম্পর্কিত বিভিন্ন তত্ত্ব বা মতবাদ, রাষ্ট্রের কার্যাবলি এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন উপাদান নিয়ে আলোচনা করে। পৌরনীতি সামাজিক মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা, সাম্য, সংবিধান ইত্যাদি বিমূর্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। পৌরনীতি নাগরিকতার স্থানীয় পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, জাতীয় পর্যায়ে আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কমনওয়েলথ, জাতিসংঘ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এসব প্রতিষ্ঠানের গঠন, কার্যাবলি, অবদান এবং নাগরিকের সাথে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক নিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পৌরনীতি নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আলোচনা করে। এসব আলোচনার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ নাগরিক জীবনের দিকনির্দেশনা প্রদান করে। এছাড়া বুদ্ধি, বিবেক ও আত্মসংযম নাগরিক জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে বুদ্ধিসম্পন্ন ও বিবেকবান নাগরিক সৃষ্টি করে।
সুতরাং বলা যায়, পৌরনীতি ও নাগরিকতার পরিসর অত্যন্ত বিস্তৃত।