উদ্দীপকের শেষোক্ত লাইনটি হলো, "ভূমিকর্ষণ হচ্ছে জমি প্রস্তুতির প্রথম ধাপ।” নিচে লাইনটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা হলো-শস্যের বীজ মাটিতে সুষ্ঠুভাবে বপন ও পরবর্তী পর্যায়ে চারাগাছ বৃদ্ধির জন্য মাটিকে যে প্রক্রিয়ায় খুঁড়ে বা আঁচড়ে আগাছামুক্ত, নরম, আলগা ও ঝুরঝুরা করা হয় তাকে ভূমি কর্ষণ বলে, যা জমি প্রস্তুতির প্রাথমিক ধাপ। জমি চাষের উপযোগী করতে হলে প্রথমেই কর্ষণের প্রয়োজন হয়, কারণ কর্ষণ ছাড়া জমি কখনোই ফসল উৎপাদনের উপযুক্ত অবস্থায় পৌছায় না। কর্ষণ না করা হলে জমির মাটি কঠিন ও অনুপযুক্ত থেকে যায়, যার ফলে বীজ বপন কিংবা চারা রোপণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এছাড়াও ভূমি কর্ষণের সাথে নানা প্রযুক্তি জড়িত। যেমন- বীজকে অঙ্কুরোদগমের জন্য উপযুক্ত স্থানে ও সঠিক গভীরতায় স্থাপন করা, মাটিতে বায়ু চলাচলের সুবিধা করা, উপরের মাটি নিচে এবং নিচের মাটি উপরে নিয়ে আসা, মাটিতে অণুজীবের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করা ইত্যাদি।আদিকাল থেকেই মানুষ ভূমি কর্ষণের মাধ্যমে জমি চাষ করে আসছে ও ভূমি কর্ষণের গুরুত্ব উপলব্ধি করেছে। এখনও চাষাবাদের জন্য এই পদ্ধতিটি অপরিহার্য। কর্ষণের পরই শুরু হয় বীজ বপনের কাজ, ধাপে ধাপে গাছ জন্ম নেয়, বেড়ে ওঠে এবং সবশেষে ফসল ফলে।সুতরাং, উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায় যে, মতি মিয়ার শেষোক্ত লাইনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।