উদ্দীপকে চিত্র-ক দ্বারা বরেন্দ্র ও মধুপুর অঞ্চল এবং চিত্র-খ দ্বারা উপকূলীয় অঞ্চলকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
মাটি হলো ফসল উৎপাদনের অন্যতম মাধ্যম। ফসল উৎপাদন মাটির বৈশিষ্ট্যের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। বাংলাদেশের মাটিতে অল্প বিস্তর সব ফসলই জন্মে। কিন্তু সব অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য একরূপ নয়। তাই দেখা যায়, ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের মাটিতে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ফসল বা কৃষিপণ্য ভালো উৎপাদন হয়।
বরেন্দ্র ও মধুপুর অঞ্চলের মাটি দোআঁশ এবং মাটিতে নিম্নমাত্রার জৈব পদার্থ ও পটাশজাত খনিজ পদার্থ থাকে। এছাড়া এর pH মাত্রা হলো ৫.৫ - ৬.৫। এজন্য এ অঞ্চলে নানাবিধ ফসল উৎপন্ন হয় তবে ঠিকমতো সেচ দরকার হয়ে থাকে। এ অঞ্চলের বৃষ্টি নির্ভর ফসল হলো বোরো, আখ, আলু, সরিষা, মসুর, ছোলা, বার্লি, শীতকালীন শাকসবজি, বোনা আউশ, পাট, কাউন, রোপা আমন, গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি ইত্যাদি। আবার সেচ নির্ভর ফসলের মধ্যে রয়েছে আখ, গম, সরিষা, চীনাবাদাম, মসুর, টমেটো, বাঁধাকপি, ছোলা, রোপা আউশ, পাট, মুগ, ঢেঁড়স, রোপা আমন, শীতকালীন শাকসবজি ইত্যাদি।
আবার, উপকূলীয় অঞ্চলের মাটি হলো দোআঁশ, বেলে ও পলি দোআঁশ প্রকৃতির এবং অল্প পরিমাণ জৈব পদার্থ ও পটাশজাত খনিজ রয়েছে। এ মাটির pH মান ৭.০ - ৮.৫। তখনকার মাটির গুণাগুণের উপর ভিত্তি করে এখানে বিভিন্ন প্রকার কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। এ অঞ্চলের বৃষ্টিনির্ভর ফসলের মধ্যে রয়েছে- গম, সরিষা, মুগ, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন, মুলা, বেগুন, শিম, টমেটো, চীনাবাদাম, ভুট্টাসহ বোনা আউশ, রোপা আউশ, রোপা আমন, পাট, কাঁকরোল ইত্যাদি। এছাড়া এ অঞ্চলের সেচ নির্ভর ফসলের মধ্যে রয়েছে বোরো, টমেটো, আলু, সরিষা, তরমুজ, মুগ, মরিচসহ রোপা আউশ, রোপা আমন ইত্যাদি।
তাই উপরের আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি যে, বরেন্দ্র ও মধুপুর অঞ্চলের তুলনায় উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে বিভিন্ন প্রকার কৃষিপণ্য উৎপাদন হয়।