উদ্দীপকে বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের প্রভাবে সৃষ্টি বিপর্যয়টি হলো ভূমিক্ষয়। ভূমিক্ষয় প্রতিরোধে নিম্নলিখিত ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করতে হবে-
i. ভূমিক্ষয় কমাতে পানি প্রবাহ হ্রাস করতে হবে। বিভিন্নভাবে যেমন-বাঁধ বা আল দিয়ে পানি প্রবাহের বেগ কমানো যাবে।
ii. রিল ভূমিক্ষয়ের ফলে যে ছোট ছোট নালার সৃষ্টি হয় তা ভরাট করে সমান করে দিলে পানির বেগ কমে যাবে এবং ভূমিক্ষয় রোধ হবে।
iii. বড় নালার মধ্যে আগাছা জন্মাতে দিতে হবে এবং শেষ প্রান্তে খুঁটি পেতে তারের জাল বেঁধে দিলে পানির বেগ কমে যাবে।
iv. তারের জালের মুখে খুড়কুটা ফেললে পানির বেগ একেবারেই মন্থর হবে এবং ভূমিক্ষয় রোধ হবে।
v. জমিতে পানি জমা থাকলে এর সাথে বৃষ্টির পানি যোগ হলে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয় এবং জমির মাটি আলগা হয়ে অন্যত্র চলে যায়। কাজেই কৃষি জমি কয়েক খণ্ডে ভাগ করে প্রতি খণ্ড হতে পানি সরালে ভূমির এরূপ ক্ষয়রোধ করা সম্ভব হবে।
vi. জমিতে জৈব পদার্থ অধিকমাত্রায় প্রয়োগ করলে মাটির দানাবন্ধন ভালো হবে এবং ভূমিক্ষয় রোধ হবে।
vii. জুম চাষের ফলে পাহাড়ের মাটি সহজেই আলগা হয়ে যায় এবং ভূমিক্ষয় হয়। জুম চাষ না করে যদি পাহাড়ের গায়ে চতুর্দিক ঘিরে সমতল সিঁড়ি বা ধাপ করে চাষাবাদ করা হয় তা হলে বৃষ্টির পানি পাহাড়ের মাটির ক্ষয় করতে পারবে না।
viii. কন্টোর পদ্ধতিতে পাহাড়ের ঢালের আড়াআড়ি সমন্বিত লাইনে জমি চাষ করতে হবে। ফলে বৃষ্টির পানির গতি কমবে। মাটি স্থানান্তরিত না হয়ে ফসলের গোড়ায় আটকে থাকবে।
তাই বলা যায়, উপরিল্লিখিত সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাসমূহ গ্রহণের মাধ্যমে ভূমিক্ষয়ের বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব।