উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় ও তৃতীয় রোগী যথাক্রমে এনিমিয়া এবং গলগণ্ড রোগে আক্রান্ত।
দেহে লৌহের অভাবে এনিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা এবং আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড বা গয়টার রোগ হয়। এনিমিয়া হলে হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন বহন করে দেহকোষে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হয়। এনিমিয়ার লক্ষণ হলো শারীরিক দুর্বলতা, ক্লান্তি, গায়ের রং ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, খাওয়ার অরুচি এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে যাওয়া।
রোহিঙ্গা শিবিরের দ্বিতীয় রোগীর চোখের নিচ, জিভ ও চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। অর্থাৎ, সে এনিমিয়ায় আক্রান্ত। এ রোগের প্রতিকারে লৌহ জাতীয় খাদ্য যেমন— সবুজ শাকসবজি, কচুশাক, সিমের বিচি, ডাল, কলিজা খেতে হবে। প্রয়োজনে ফেরাস সালফেট ট্যাবলেট সেবন করতে হবে। মারাত্মক রক্তস্বল্পতায় রোগীকে রক্ত নিতে হতে পারে। এনিমিয়া প্রতিরোধের জন্য সুষম খাদ্য খেতে হবে। গর্ভবতী মাকে আয়রন ট্যাবলেট দিতে হবে। শিশু জন্মের পর শালদুধ এবং ছয় মাস বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ দিতে হবে। শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হলে লৌহ সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। উদ্দীপকের তৃতীয় রোগী গলগণ্ড রোগে আক্রান্ত। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন হরমোন উৎপন্ন হয়। আয়োডিনের অভাবে এ হরমোনের ক্ষরণ হ্রাস পায়। আয়োডিনের অভাব পূরণের জন্য থাইরয়েড গ্রন্থি এই হরমোন নিঃসরণ ক্ষমতা বাড়িয়ে অভাব পূরণের চেষ্টা করে। ফলে গ্রন্থি আকারে বড় হয়ে গলার নিচে ঝুলে পড়ে, একে গলগন্ড বলে। রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে সামুদ্রিক মাছ (ছুরি, কোরাল, লইট্যা) ও এর তেল, সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে উৎপন্ন উদ্ভিজ্জ খাদ্য, শুটকি মাছ এবং আয়োডিনযুক্ত লবণ খেতে হবে।