দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত অভাবজনিত অবস্থার প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উদ্দীপকে উল্লেখিত দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত রোগটি হলো কোয়াশিয়কর ও ম্যারাসমাস। প্রোটিনের অভাবে কোয়াশিয়রকর ও ম্যারাসমাস রোগ হয়। প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও ক্যালরির অভাবে যে অপুষ্টি দেখা দেয় তাকে প্রোটিন শক্তি ঘাটতিজনিত অপুষ্টি বা PEM (Protein Energy Malnatrition) বলে। ছোট শিশুদের খাদ্যে প্রোটিন ক্যালরি জনিত অপুষ্টির কারণে ম্যারাসমাস রোগ হয় সাধারণত এক বছরের শিশুদের মধ্যে এই রোগ বেশি হতে দেখা যায়। এ রোগ হলে শিশুর পেশি-শীর্ণ ও দুর্বল হয়ে যায়, ওজন কমে যায়, চামড়া ও চুলের মসৃণতা নষ্ট হয়ে যায়, খাওয়ার অরুচি, এনিমিয়া এবং ডায়রিয়া দেখা দেয়। অন্যদিকে, অতি শৈশবে শিশু মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত হলে এ বাড়তি খাবারে প্রোটিনের অভাব ঘটলে কোয়াশিয়রকর রোগ দেখা দেয়। কোয়াশিয়রকর হলে শিশুর দেহের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। চামড়া খসখসে হয়ে ঝুলে পড়ে পেশির ক্ষয় হয়, ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়, হাত পা মুখে পানি জমে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। প্রোটিন ক্যালরি অভাবজনিত রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধে বেশ কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে। ক্যালরিসমৃদ্ধ ও পুষ্টিকর খাবার, যেমন— মাংস, ডিম ও ডাল দিয়ে তৈরি নরম খিচুড়ি অল্প পরিমাণে বারবার খেতে দিতে হবে। শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। পানিশূন্যতা থাকলে শিশুকে পরিমাণমতো খাবার স্যালাইন দিতে হবে, শিশুর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন রোগের ধরন নির্ণয় করে সে অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে। এছাড়া গর্ভকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। শিশুর জন্মের সাথে সাথে তাকে মায়ের শালদুধ খাওয়ানো, নিয়মিত শিশুর ওজন পর্যবেক্ষণ করা, সময়মতো সব টিকা দেওয়া, গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মাকে শিশুর বিভিন্ন বয়সের খাবার সম্পর্কে শিক্ষাদান করা এবং বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রোটিনের অভাবজনিত রোগ-প্রতিকার ও প্রতিরোধ করা সম্ভব।
HSC Home Science 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Home Science 2nd Paper · সৃজনশীল
দৃশ্যকল্প-২ এ নির্দেশিত অভাবজনিত অবস্থার প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায…
Rajshahi · 2022
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর