উদ্দীপকে দ্বিতীয় রোগীর গলার সামনের অংশ ফোলা অর্থাৎ সে গলগণ্ড রোগে আক্রান্ত। তৃতীয় রোগী রাতে ভালোভাবে দেখতে পায় না। অর্থাৎ সে রাতকানা রোগে আক্রান্ত। আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড এবং ভিটামিন এ এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন হরমোন উৎপন্ন হয়। আয়োডিনের অভাবে থাইরক্সিন হরমোনের ক্ষরণ হ্রাস পায়। ফলে রক্তে আয়োডিনের পরিমাণ কমে যায়। তখন আয়োডিনের অভাব পূরণের জন্য থাইরয়েড গ্রন্থি হরমোন নিঃসরণ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে গ্রন্থিটি আকারে বড় হয়ে গলার নিচে ঝুলে পড়ে। একেই গলগণ্ড বলে । গলগণ্ড প্রতিরোধ ও প্রতিকারে সামুদ্রিক মাছ ও মাছের তেল, সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে উৎপন্ন খাদ্য খেতে হবে। আয়োডিনযুক্ত লবণ খেতে হবে।
উদ্দীপকে তৃতীয় রোগী রাতকানা রোগে আক্রান্ত। ভিটামিন 'এ' এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। এ রোগ থেকে প্রতিকারে ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খেতে হবে, সবুজ ও রঙিন শাকসবজি, ফলমূল এবং প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় স্নেহ জাতীয় উপাদান (তেল, ঘি, মাখন) থাকতে হবে। রাতকানা প্রতিরোধে খাদ্য তালিকায় কলিজা, ডিম, ঘি, মাখন, মাছের তেল, সবুজ ও হলুদ রঙের শাকসবজি, ফলমূল রাখতে হবে। গর্ভাবস্থায় এ খাবারগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে হবে। শিশুর জন্মের পর তাকে শালদুধ খাওয়াতে হবে। ২ বছর পর্যন্ত শিশুকে বুকের দুধ দিতে হবে। শিশুর ৬ মাস বয়সের পর বাড়তি খাবারে ভিটামিন 'এ' সমৃদ্ধ খাদ্য রাখতে হবে এবং তেল দিয়ে খাবার রান্না করতে হবে। এছাড়া শিশুদের বয়স অনুযায়ী ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল দিতে হবে। উল্লিখিত উপায়গুলোর মাধ্যমে রাতকানা ও গলগণ্ড প্রতিকার ও প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।