উদ্দীপকে 'এ' চিহ্নিত বস্তুটি হলো জামদানি; যাকে মসলিনের ' উত্তরসূরি বলা হয়।
'জামদানি বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র। এটি মসলিনের উত্তরসূরি।
জামদানি শাড়ি তৈরিতে দুজন কারিগর লাগে। মসলিনের উপর নকশা করে জামদানি কাপড় তৈরি করা হয়। এর প্রধান উপাদান সুতা। সুতার সূক্ষ্মতার ওপর নির্ভর করে এ শাড়ির মান ও গুণাগুণ। পূর্বে জামদানি বস্ত্র তৈরিতে সুতি ও রেশম সুতা ব্যবহার হতো। কিন্তু বর্তমানে রেশম সুতার বদলে নাইলন, সিল্ক এবং সুতি সুতা ব্যবহার করা হচ্ছে। জামদানি সুতায় রং করার জন্য দরকার হয় দক্ষ কারিগর। তারা হাট থেকে সুতা কিনে বিভিন্ন ভেষজ রঙের মিশ্রণে এ রংগুলো তৈরি করেন। জামদানি বয়নকারী তাঁতিরা পড়াশুনা জানে না বলে তারা সব নকশা কাগজে আঁকতে পারে না। চারপাশের প্রাকৃতিক বস্ত্র থেকে ধারণা নিয়ে তারা নিজের মন থেকে সরাসরি কাপড়ে নকশা প্রয়োগ করে থাকে। জামদানির জমিনের নকশা বুটা, জাল ও তেসরি এ শ্রেণিতে বিভক্ত। নকশাভেদে জামদানির পাড়ের নামও ভিন্ন হয়। যেমন- ইঞ্চিপাড়, কলকা, পুঁইতল, দুবলা, করলা, কাঠি, সিক, সুচ, কাঁচি, সাল, শ্যামুক, চাঁদ মরালী, টাংগাইলা গাছ ইত্যাদি।