উদ্দীপকে উল্লিখিত তন্বী ও সেতুর কেনা পোশাক দুটি খাসিয়া ও রাখাইন সম্প্রদায়কে নির্দেশ করেছে।খাসিয়ারা মূলত ব্রহ্মদেশের অধিবাসী ছিল। বর্তমানে খাসিয়ারা সিলেটের সীমান্তবর্তী অঞ্চল, জৈন্তিয়া পাহাড়, তামাবিল, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় বসবাস করে। খাসিয়ারা আদি মঙ্গোলয়েড নরগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। এরা আমিষভোষী খাসিয়াদের পোশাক-পরিচ্ছদ খুবই সাধারণ। খাসিয়া মেয়েরা নিজেদের তৈরিকৃত 'কাজিম পিন' নামক এক প্রকার ব্লাউজ ব্যবহার করে এবং পুরুষরা এক প্রকার পকেটহীন জামা ও লুঙ্গি পরিধান করে। অন্যদিকে, রাখাইনরা বর্তমান মিয়ানমারের আরাকান অঞ্চলের অধিবাসী ছিল। তারা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশের পটুয়াখালী, বরগুনা ও কক্সবাজার জেলায় রাখাইনরা বসবাস করে। রাখাইন সমাজে পোশাকে আহামেরি কোনো বৈচিত্র্য নেই। রাখাইন পুরুষরা লুঙ্গি ও ফতুয়া পরে। মন্দিরে প্রার্থনাকালীন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তারা মাথায় পাগড়ি পরে। এটি তাদের ঐতিহ্যের প্রতীক। রাখাইন মেয়েরা স্বহস্তে বাটিক করা লুঙ্গি পরে। তারা লুঙ্গির ওপরে ব্লাউজ পরে। তাদের হাতে বোনা বা বাটিক কাজ করা বর্ণময় নকশা আঁকা, এসব লুঙ্গি দেখতে ভারি চমৎকার।