ডলি যে শাড়িটি ক্রয় করেছে সেটি হচ্ছে জামদানি আর ডলির মা যে শাড়িটি কিনেছে তার নাম রাজশাহী সিল্ক।মসলিনের উপর নকশা করে জামদানি শাড়ি তৈরি করা হয়। উপাদান অনুযায়ী জামদানি। হাফ সিল্ক জামদানি এবং ফুল কটন জামদানি। হাফ সিল্ক এর আড়াআড়ি সুতাগুলো রেশমের আর লম্বালম্বি সুতাগুলো তুলার সুতায় তৈরি। ফুল কটনের জামদানি সম্পূর্ণ তুলার সুতায় তৈরি। জামদানি বিচিত্র নকশার কারণে বিখ্যাত। নকশাগুলোর বিভিন্ন নাম রয়েছে। যেমন: পান্নাহাজার, বুটিদার,, দুবলিজাল, তেরসা, ঝালর, ময়ূরপাখা, কলমিলতা, পুঁইলতা, কল্কাপাড়, প্রজাপতি, শাপলাফুল, হংসবলাকা, চন্দ্রপাড়, ঝুমকা, জবাফুল, শবনম, কচুপাতা ইত্যাদি। গুটিপোকা থেকে সিল্কের সুতা তৈরি হয়। প্রথমে সাদা রঙের গুটিপোকা সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেই পোকা একটি নির্দিষ্ট ট্রেতে রেখে তাতে তুঁত গাছের পাতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ পাতা খেয়ে গুটিপোকা পূর্ণাঙ্গ অবয়ব পায়। পাতা খেতে খেতে একসময় গুটিপোকা হলুদাভ রং ধারণ করে। তখন পোকাগুলো আলাদা ট্রেতে রাখা হয়। সেখানে পোকাগুলো পুরোপুরি হলুদ হয়ে শক্ত আকার ধারণ করে। এগুলো গরম পানিতে সিদ্ধ করে 'ওপরের খোসা সরিয়ে ফেলা হয়। এর মধ্যে থেকে রেশম সুতার গুটি বেরিয়ে আসে। এরপর ইলেকট্রিক চরকায় এ গুটি থেকে রেশম বা সিল্ক সুতা তৈরি হয়। এ সুতা আরও প্রক্রিয়াজাত করে বুনন কারখানায় যায়। রেশম বা সিল্ক কাপড়ের লাল গরদ শাড়ি, গরদের পাঞ্জাবি, মটকা শাড়ি ছাড়া বাঙালির বিয়ে-পার্বণ কল্পনা করা যেত না। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এখনো জামদানির চাহিদা রয়েছে। বর্তমান বাজারে জামদানির উচ্চমূল্য ও বিপুল চাহিদার কারণে এই শিল্পে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। অন্যদিকে শত সংকটে এখনো টিকে আছে রাজশাহী সিল্ক শাড়ি।