উদ্দীপকে উল্লিখিত B ও C চিহ্নিত ছকের বস্ত্র দুটো যথাক্রমে রাজশাহী সিল্ক ও খদ্দর।সৌন্দর্য ও আভিজাত্যের জন্য সিল্ককে তন্তুর রানি বলা হয়। সিল্কের জন্ম চীন দেশে। চীন থেকে এটি তিব্বত এবং পরে ভারতের হিমালয় অঞ্চলে প্রসার লাভ করে। পরে ভারত, বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। মুঘল আমল থেকেই রাজশাহীতে রেশম চাষ শুরু হয়। সিল্কের কাপড়ের জন্য একসময় রাজশাহী পরিচিত হয় সিল্ক নগরী হিসেবে। রেশম পোকা থেকে তৈরি হয় সিল্কের সুতা। পোকাগুলো ককুন নামক আবরণের মধ্যে নিজেকে সম্পূর্ণ আবৃত করে ফেলে এবং মথে পরিণত হয়। আর এভাবেই বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পোকা থেকে আসে রেশম বা সিল্ক পোশাক। রেশম কাপড়ের লাল গরদ শাড়ি, গরদের পাঞ্জাবি, মটকা শাড়ি ছাড়া বাঙালির বিয়ে পার্বন কল্পনাও করা যেত না একটা সময়। মেশিনে বোনা সস্তা কাপড়ের ভিড়ে এখন শক্তভাবে টিকে আছে ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী সিল্ক।অন্যদিকে, অবিভক্ত বাংলায় স্বদেশি আন্দোলনের পর থেকেই খদ্দর কাপড়ের উৎপত্তি। মহাত্মা গান্ধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিদেশি কাপড় বর্জন করে দেশীয় তুলায় চরকায় কাটা সুতা দিয়ে তাঁতে তৈরি কাপড় ব্যবহারের আহ্বান জানান। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই খদ্দর কাপড় ভারত উপমহাদেশে প্রসার লাভ করে। খদ্দর কাপড় সস্তা এবং সহজলভ্য। পাতলা মোটা উভয় ধরনের খদ্দরের কাপড় পাওয়া যায়। খদ্দর কাপড় আরামদায়ক এবং শীত, গ্রীষ্ম উভয় ঋতুতে পরিধানযোগ্য।সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, 'ঐতিহাসিক পটভূমির দিক থেকে রাজশাহী সিল্ক ও খদ্দর বস্ত্রের ভিন্নতা রয়েছে'।