উদ্দীপকে শিল্প উপাদানগুলো অর্থাৎ রঙ, রেখা, আকার, জমিন ইত্যাদি ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়তা করে।রঙ পোশাকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও নকশায় বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে ব্যক্তিকে আরও মাধুর্যময় করে তোলে। ব্যক্তিত্ব বিকাশে রঙের ভূমিকা অন্যতম। যেমন: অল্প বয়স্কদের জন্য উজ্জ্বল রঙ, বৃদ্ধদের জন্য হালকা রঙ, আবার যারা ফর্সা তাদের জন্য হালকা রঙ, শ্যামলাদের জন্য উজ্জ্বল রঙ উপযোগী। পোশাকের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে রেখা আর একটি অন্যতম শিল্প উপাদান। রেখা পোশাকের ডিজাইনে বৈচিত্র্য আনে। ডিজাইন যে ধরনের হোক না কেন, রেখা এবং আকার ডিজাইনের বৈচিত্র্যকে প্রভাবিত করে ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে বিকশিত করে। পেশাকে রেখার ব্যবহারের ফলে ব্যক্তিকে আপাতদৃষ্টিতে লম্বা, খাটো, বেটে মনে হয়। লম্বা রেখায় ব্যক্তিকে লম্বা দেখায়। আড়াআড়ি রেখায় ব্যক্তিকে মোটা ও বেটে দেখায়। বক্র রেখা পরিধানকারীর দৈর্ঘ্য কমায় কিন্তু পোশাকে ছন্দ আনে ও লাবণ্য সৃষ্টি কলে। পুনঃপুন রেখার ব্যবহার নকশায় ছন্দ আনে। পোশাকে বিপরীত রেখার বিন্যাস সামঞ্জস্য রক্ষা করে পরিধানকারীকে সাবলীল করে। আবার প্রতিটি পোশাকের রয়েছে নির্দিষ্ট আকার। নির্দিষ্ট আকারের পোশাক ব্যক্তির সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে। কোনো ব্যক্তি তার আকারের চেয়ে ছোট বা বড় পোশাক পরলে তাকে বেমানান মনে হবে। কারও মুখের আদল যদি গোল হয়, তাহলে গভীর করে কাটা ভি বা ইউ তার অবয়বে লম্বা ভাব আনবে। দেহের বৈশিষ্ট্য, যেমন- বর্ণ, উচ্চতা ইত্যাদি বিবেচনা করে আকার বা আকৃতির পরিবর্তন, পরিবর্ধনের মাধ্যমে ডিজাইনে বৈচিত্র্য এনে ব্যক্তিত্বকে মোহনীয় করে তোলা যায়। অন্যদিকে, নরম, পাতলা ও মসৃণ জমিনের বস্ত্রে যেকোনো সূচি, নকশা প্রয়োগ করলে পোশাক সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয়, যা ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে আকর্ষণীয় করে তোলে।উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, ব্যক্তিত্ব বিকাশে উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্প উপাদানগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য।