উদ্দীপকের চিত্রে শিল্পকলার বিভিন্ন নীতির প্রতিফলন ঘটেছে। যেমন ভারসাম্য বা সমতা, সংগতি বা অনুপাত, ছন্দ, মিল এবং প্রাধান্য।
সুন্দর ডিজাইনের জন্য পোশাকে ভারসাম্যের প্রয়োজন রয়েছে। পোশাক একদিকে যতটুকু সুন্দর হবে, অপরদিকেও ততটুকুই সুন্দর হবে। এর একটি উপায় হলো দুই দিকেই একই ডিজাইন করা। চিত্রে দেখা যাচ্ছে ঢেউ খেলানো রেখার উপর পাতার নকশা এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন ভারসাম্য রক্ষা হয়। অন্যদিকে, দুটি বস্তুর পারস্পরিক সমন্বয়ের মধ্যে মিলনকে সংগতি বা অনুপাত বলে। পোশাকে রঙ, নকশা, গঠন, আকার-আকৃতি প্রভৃতির সাথে সম্পর্ক রয়েছে। এসবের পারস্পরিক সম্পর্কের ফলে পোশাকের সৌন্দর্য ফুটে ওঠে এবং পোশাককে আকর্ষণীয় করে তোলে, যা উদ্দীপকের চিত্রে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। শিল্পকলার অন্যতম নীতি হলো ছন্দ। দৃষ্টির গতির ওপর ছন্দ নির্ভর করে। রঙ, রেখা, বিন্দু, আকার প্রভৃতির পুনঃপুন ব্যবহার করে ছন্দ সৃষ্টি করা যায়। বক্ররেখার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে উদ্দীপকে ছন্দ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। শিল্পনীতির মধ্যে মিল বা সমন্বয় পোশাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পোশাকে বিভিন্ন সামগ্রীর সমাবেশ এমন হওয়া উচিত, যাতে সেগুলোর মধ্যে একটি সমন্বয় থাকে। উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি, বক্ররেখার প্রত্যেকটি ঢেউয়ের তালে তালে পাতার ডিজাইনের সমন্বয় ঘটিয়ে বৈচিত্র্য ও সৌন্দর্য সৃষ্টি করা হয়েছে। যার মাধ্যমে চিত্রে শিল্পনীতির মিলের প্রতিফলন ঘটেছে। এমনকি চিত্রে পাতার ডিজাইন ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাধান্য সৃষ্টি করা হয়েছে। পোশাকে বিশেষ আকার, রঙ, নকশা, গঠনকে প্রাধান দিয়ে আকর্ষণীয় ক. তোলাই প্রাধান্য। যেমন- চিত্রে বক্ররেখার ওপর পাতার নকশা দিয়ে প্রাধান্য সৃষ্টি করা হয়েছে।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, উদ্দীপকের চিত্রে শিল্পকলার 'নীতির প্রয়োগ সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।