মিজান সাহেবের কর্ম কী? আত্মশুদ্ধিতে তার গুরুত্ব মূল্যায়ন কর।
উত্তর: উদ্দীপকে বর্ণিত মিজান সাহেবের কর্মটি হলো সাওম। সাওম অর্থ বিরত থাকা। সাওমকে ফার্সিতে রোযা বলা হয়। ইসলামি পরিভাষায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়মের সহিত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পানাহার ও কামাচার থেকে বিরত থাকাতে সাওম বলে। রমজানের সিয়াম পালন করা একাধারে একটি ধর্মীয় ও নৈতিক অনুশীলন। আর সিয়াম বলতে শুধু ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য, পানীয় ও দৈহিক সম্ভোগ থেকে বিরত থাকাকেই বোঝায় না, বরং সবরকম অন্যায়, অশুভ চিন্তাকর্ম থেকে বিরত থাকাকে বোঝায়। কেননা আত্মশুদ্ধি অর্জনের সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম হলো সিয়াম পালন করা। সাওম পালনের মাধ্যমে রোজাদার ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ও সচেতনভাবে নিজেকে সব রকম দৈহিক সম্ভোগ ও প্রচলিত সুযোগ-সুবিধা থেকে বিরত রাখে এবং অবলম্বন করে এমন এক উপায়, যার সাহায্যে সে সুযোগ পায় তার পাশবিক প্রবৃত্তিসমূহকে সংযত করার। মানুষের সেই পাশবিক প্রবৃত্তির মধ্যে রয়েছে অহংকার, হিংসা লোভ-লালসা, কামনা-বাসনা, গিবত করা, অশ্লীল কার্যাদি, ঝগড়া-কলহ ইত্যাদি। সিয়াম সাধনা মানুষের মধ্যকার এ সকল খারাপ ও কুপ্রবৃত্তিগুলোকে দমন করে পরিপূর্ণ আত্মশুদ্ধি অর্জনে প্রবলভাবে সাহায্য করে। পাশাপাশি সাওম পালনকারীকে একজন পূর্ণাঙ্গ ও সত্যিকার মানুষে পরিণত করে। এজন্য মহান আল্লাহ বলেন- كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصَّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ অর্থ : “তোমাদের ওপর সাওম (রোযা) ফরয করা হয়েছে। যেমনটি করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যেন তোমরা তাকওয়া (আল্লাহ ভীতি) অর্জন করতে পার।" (সূরা আল-বাকারা : ১৮৩) রাসুল (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি ইমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমযানের রোযা পালন করে, তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।” (বুখারি ও মুসলিম) পরিশেষে বলা যায়, সাওম পালনের মাধ্যমে মানুষ আত্মশুদ্ধি অর্জন করে এবং আল্লাহ প্রেমিক, ধৈর্যশীল, পরোপকারী, নিরহংকারী ইত্যাদি নৈতিক গুণে গুণান্বিত হয়ে চারিত্রিক দৃঢ়তায় উপনীত হয়।
HSC Islamic Studies 2nd Paper CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Islamic Studies 2nd Paper · সৃজনশীল
মিজান সাহেবের কর্ম কী? আত্মশুদ্ধিতে তার গুরুত্ব মূল্যায়ন কর।
উদ্দীপক
রাজশাহী কলেজ · 2024
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর