জনাব 'জ' কর্তৃক পালিত ইবাদতটি হলো হজ। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নির্দিষ্ট কাজের মাধ্যমে নির্ধারিত স্থান জিয়ারত করাকে হজ বলে।হজের সময় বিশ্বের সকল দেশ থেকে লাখো লাখো লোক আল্লাহর ঘরের জিয়ারতে সমবেত হয়। এ সময় মুসলমানরা বিশ্বভ্রাতৃত্বের নবপ্রেরণায় উদ্দীপ্ত হয়ে একতাবদ্ধ হয়। এ ঐক্য এতই পূর্ণাঙ্গ যে, এখানে প্রভু ও ভৃত্যের নামে কোনো পার্থক্য সৃষ্টি করা যায় না। It is the greatest council of Muslim ummah, অর্থাৎ হজ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ঐক্য সম্মেলন। অন্য কোনো কারণে এত অধিক সংখ্যক মুসলমান কখনো কোথাও একত্রিত হয় না। হজ কেবল ইমানকেই বলিস্ট করে না; বরং এটি সমগ্র মুসলিম জাহানকে ঐক্যবদ্ধ করার পন্থা হিসেবেও কাজ করে। যেমন এরশাদ হচ্ছে, "তোমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আল্লাহর রজ্জুকে ধারণ কর।" (সূরা আলে ইমরান: ১০৩) হজে উঁচু-নিচু, রাজা প্রজা, মনিব-ভৃত্য, আরব-অনারব, ধনী-দরিদ্র সকলে একই প্রকারের পোশাক পরিধান করে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, ভেদাভেদের সকল প্রাচীর ভেঙে সাম্যের মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ হয়ে মহান প্রভুর বিধান পালন করে থাকে। হজ ব্যতীত পৃথিবীর অন্য কোনো অনুষ্ঠানে সাম্যের এ নজির পরিদৃষ্ট হয় না।
উদ্দীপকে ইমাম সাহেবের মতে, হজ মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতি সৃষ্টি করে এবং সাম্যবাদী চেতনার উন্মেষ ঘটায়। তার বক্তব্যটি যথার্থ, উপরিউক্ত আলোচনায় সেটাই প্রমাণিত হয়।