তাহমিনার বক্তব্যে হাক্কুল্লাহর পাশাপাশি হাক্কুল ইবাদের গুরুত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় তার বক্তব্য আমি সমর্থন করি।
ইসলামে দুই ধরনের ইবাদতের সমর্থন রয়েছে। একটি হলো আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত ইবাদত, যাকে হাক্কুল্লাহ বলা হয়। যেমন: সালাত, হজ, জাকাত প্রভৃতি। অন্যদিকে মানুষের ওপর মানুষের যে হক বা অধিকার রয়েছে তা হাক্কুল ইবাদ নামে পরিচিত। ইসলামে দুই ধরনের ইবাদত পালনের প্রতিই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে । কিন্তু তানযিল এ বিধান লঙ্ঘন করেছে।
আল্লাহর ইবাদত পালন না করলে আল্লাহর কাছে যেমন জবাবদিহি করতে হবে, তেমনি মানুষের হক আদায় না করলেও জবাব দিতে হবে। রাসুল (স) বলেছেন, নিশ্চয়ই তোমার ওপর তোমার প্রভুর এবং তোমার শরীরের ওপর তোমার স্ত্রী ও সন্তানের হক রয়েছে। তাই হাক্কুল ইবাদ পালনে অবহেলা বা উপেক্ষা করলে দুনিয়া ও আখিরাতে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। তানযিল আল্লাহর হক আদায় করতে গিয়ে মানুষের অধিকার হরণ করেছে। সে পিতার গচ্ছিত সম্পদ থেকে মা-বোনকে বঞ্চিত করে হজ পালন করেছে। এ ধরনের ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এজন্য তাকে পরকালে জবাব দিতে হবে। আল্লাহর হক আদায় না করলে আল্লাহ ইচ্ছা করলে বান্দাকে ক্ষমা করে বা শাস্তি দিতে পারেন। কিন্তু মানুষের অধিকার লঙ্ঘন করলে অধিকার বঞ্চিত ব্যক্তি যতক্ষণ ক্ষমা না করেন, আল্লাহ ততক্ষণ বান্দাকে ক্ষমা করেন না।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি মানুষের অধিকার আদায়েও যত্নশীল হতে হবে। এ প্রেক্ষিতে তাহমিনার বক্তব্য সমর্থনযোগ্য।